দৈনিক গণজাগরণ

আন্তর্জাতিক

ভূগর্ভস্থ বিশাল ড্রোন ঘাঁটির ভিডিও প্রকাশ করল ইরান

সামরিক শক্তি প্রদর্শনে নতুন করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে ইরান। সম্প্রতি দেশটির সামরিক বাহিনী পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত একটি বিশাল ভূগর্ভস্থ ড্রোন ঘাঁটির ভিডিও প্রকাশ করেছে। এই ভিডিওতে শত শত অত্যাধুনিক মানববিহীন আকাশযান বা ড্রোন সারিবদ্ধভাবে রাখা অবস্থায় দেখা গেছে, যা ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতার এক শক্ত বার্তা দিচ্ছে।প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পাহাড়ের তলদেশে নির্মিত দীর্ঘ ও সুরক্ষিত কংক্রিটের সুড়ঙ্গের ভেতর সারি সারি ড্রোন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব ড্রোনের মধ্যে নজরদারি চালানোর পাশাপাশি দূরপাল্লার সরাসরি হামলায় সক্ষম অত্যাধুনিক কমব্যাট বা যুদ্ধ-ড্রোনও রয়েছে। পাহাড়ের শত শত ফুট গভীরে এ ধরনের সামরিক স্থাপনা তৈরি করার মূল উদ্দেশ্য হলো, শত্রুপক্ষের যেকোনো শক্তিশালী বিমান হামলা বা বাঙ্কার-বাস্টার বোমা থেকে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জামগুলোকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখা।ইরানের সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী এখন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে প্রায় সম্পূর্ণ স্বনির্ভর। এই ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিগুলো এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে যেকোনো যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ড্রোনগুলো সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে আক্রমণ বা প্রতিরক্ষার জন্য আকাশে উড়তে পারে।আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্ব রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই নিজেদের এই গোপন ঘাঁটির ভেতরের দৃশ্য প্রকাশ করে মূলত প্রতিপক্ষ দেশগুলোর প্রতি এক ধরনের কড়া সতর্কবার্তা দিল তেহরান। দশকের পর দশক ধরে চলমান কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সামরিক প্রযুক্তিতে, বিশেষ করে ড্রোন তৈরিতে ইরান যে কতটা উন্নতি করেছে, এই সুসজ্জিত ঘাঁটি তারই একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ।এই ভিডিও প্রকাশের পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি পরিষ্কার যে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের গুরুত্ব অনুধাবন করে ইরান তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা এবং আক্রমণাত্মক সক্ষমতাকে আরও সুসংহত ও অপ্রতিরোধ্য করে তুলছে।

ভূগর্ভস্থ বিশাল ড্রোন ঘাঁটির ভিডিও প্রকাশ করল ইরান