বাংলাদেশ    শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
দৈনিক গণজাগরণ

তপন কুমার

তপন কুমার


চুয়াডাঙ্গায় জন্মসনদ জালিয়াতির বড় চক্রের সন্ধান: ইউপি কর্মকর্তা ও ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা গ্রেপ্তার

চুয়াডাঙ্গায় দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরির সাথে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পেয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এই জালিয়াতির সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে জেলার দর্শনা থানাধীন বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং তথ্যসেবা কেন্দ্রের এক উদ্যোক্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার (৯ মে) দুপুরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।জালিয়াতির ধরণ ও যেভাবে প্রতারণা করা হতোগ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রায়হান মাহমুদ (৩৫) এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা আরিফুল ইসলাম (৩০)।প্রশাসনের তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, এই দুজন দীর্ঘদিন ধরে নিয়মবহির্ভূতভাবে জন্মসনদ তৈরির বড় একটি সিন্ডিকেট চালিয়ে আসছিলেন। প্রয়োজনীয় কোনো বৈধ কাগজপত্র বা প্রমাণাদি ছাড়াই মৌলভীবাজার, কুমিল্লা ও কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষদের বেগমপুর ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে দেখিয়ে জন্মসনদ দেওয়া হতো।আইডির অপব্যবহার: ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা আরিফুল ইসলাম সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ইউনিয়ন পরিষদের নির্ধারিত সরকারি নিবন্ধন আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে নিজেই এই কাজ পরিচালনা করতেন।অসদুপায় অবলম্বন: এই চক্রটি মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পরিচয় গোপন করে এই ভুয়া সনদগুলো সরবরাহ করছিল, যা জাতীয় এবং ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক অজ্ঞাত ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দাপ্তরিক মোবাইল নম্বরে জন্মসনদ জালিয়াতির একটি অভিযোগ করেন।অভিযোগের ভিত্তিতে ইউএনও দ্রুত বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন।এরপর সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিনে তদন্তে গিয়ে দেখতে পান, সম্প্রতি যাদের নামে ডিজিটাল জন্মসনদ ইস্যু করা হয়েছে, তারা কেউই ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা নন। এমনকি স্থানীয়রাও ওই নামের কাউকে চেনেন না।তদন্তে জালিয়াতির বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার পর শনিবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশের পদক্ষেপ ও আইনি ব্যবস্থাএ বিষয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) হিমেল রানা গণমাধ্যমকে জানান:উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে দর্শনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে 'সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫'-এর একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত দুজনই দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে জন্মসনদ তৈরির কথা স্বীকার করেছেন। বর্তমানে তারা থানা হেফাজতে রয়েছেন।স্থানীয় জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জন্মনিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সেবায় জালিয়াতি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। এই চক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা শনাক্ত করতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুতই পুরো নেটওয়ার্ককে আইনের আওতায় আনা হবে।

চুয়াডাঙ্গায় জন্মসনদ জালিয়াতির বড় চক্রের সন্ধান: ইউপি কর্মকর্তা ও ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা গ্রেপ্তার