চুয়াডাঙ্গায় শুরু হয়েছে তীব্র দাবদাহ। গ্রীষ্মের শুরুতেই রোদের প্রখরতায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। জেলার তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রখর রোদের তাপে এবং তীব্র গরমে শহরের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পিচ গলে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা পথচারী ও যানবাহন চালকদের জন্য ব্যাপক দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে দুপুর গড়াতেই পিচঢালা সড়কগুলো মারাত্মকভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সূর্যের খরতাপে রাস্তার পিচ নরম হয়ে গলে যাচ্ছে। বিশেষ করে যেসব রাস্তায় ভারী যানবাহন চলাচল করে, সেখানকার পিচ গলে গিয়ে গাড়ির চাকার দাগ বসে যাচ্ছে। এতে করে রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল এবং ইজিবাইক চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। অনেক সময় চাকার সাথে গলিত পিচ আটকে গিয়ে যাতায়াত কষ্টকর হয়ে পড়ছে এবং ছোটখাটো দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।তীব্র এই গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও কৃষকরা রোদের প্রখরতায় বেশিক্ষণ কাজ করতে পারছেন না। একটু স্বস্তির খোঁজে মানুষ গাছের ছায়ায় বা অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ দিনের বেলায় ঘর থেকে বের হওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। রাস্তাঘাটে লোকজনের উপস্থিতিও অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশ কম দেখা যাচ্ছে।স্থানীয় এক রিকশাচালক জানান, দুপুরের কড়া রোদে রাস্তায় টিকে থাকা দায়। একদিকে মাথার ওপর রোদের আগুন, অন্যদিকে রাস্তার পিচ গলে যাওয়ায় রিকশার চাকা টেনে নেওয়া অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে।তীব্র গরমে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় চিকিৎসকরা জনসাধারণকে সাবধানে চলাফেরা করার পরামর্শ দিয়েছেন। অতিরিক্ত ঘামের কারণে যাতে পানিশূন্যতা বা হিট স্ট্রোকের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি না হয়, সেজন্য বেশি বেশি বিশুদ্ধ পানি, স্যালাইন, ডাবের পানি ও তরল জাতীয় খাবার গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া খুব প্রয়োজন না হলে দুপুরের তীব্র রোদে বাইরে বের না হতে এবং বাইরে বের হলে ছাতা বা টুপি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।আবহাওয়ার এই বৈরী আচরণে সাধারণ মানুষ এখন দ্রুত এক পশলা স্বস্তির বৃষ্টির অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। তবে তাপমাত্রা আরও কিছুদিন এমন থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।