গলাকাটা অবস্থায় শিশু উদ্ধার, চমেকে চলছে চিকিৎসা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের গহীন জঙ্গল থেকে গলাকাটা ও মুমূর্ষু অবস্থায় ৭ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্বৃত্তদের চরম নিষ্ঠুরতার শিকার এই শিশুটির শ্বাসনালী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তার কথা বলার শক্তিও ছিল না। বর্তমানে শিশুটি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন রয়েছে।যেভাবে উদ্ধার হলো শিশুটি রোববার (১ মার্চ) দুপুরে সীতাকুণ্ডের বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের ভেতরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এই অমানবিক ঘটনা ঘটে। জানা যায়, ইকোপার্কের প্রায় ৫ কিলোমিটার গভীরে সড়কের সংস্কার কাজ করছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। এ সময় একজন স্কেভেটর চালক দেখতে পান, জঙ্গল থেকে গলাকাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় একটি শিশু টলমল পায়ে হেঁটে রাস্তার দিকে এগিয়ে আসছে। শিশুটির পুরো শরীর রক্তে ভিজে ছিল। কর্মরত শ্রমিকরা দ্রুত শিশুটির গলার কাটা অংশে কাপড় পেঁচিয়ে রক্তপাত বন্ধ করার চেষ্টা করেন এবং একটি ট্রাকে করে তাকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।শিশুটির পরিচয় উদ্ধার হওয়া শিশুটির নাম ইরা (৭)। সে সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের মাস্টার পাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।চিকিৎসকদের বক্তব্য ও বর্তমান অবস্থা সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে আনার পর শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর ছিল। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার শ্বাসনালী কেটে যাওয়ায় সে কথা বলতে পারছিল না। শারীরিক অবস্থা ও পারিপার্শ্বিক আলামত দেখে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতনেরও আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। জানা গেছে, শিশুটি ইশারায় চিকিৎসকদের বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে, অপরাধীকে সামনে দেখলে সে চিনতে পারবে।পুলিশের পদক্ষেপ ও আইনি ব্যবস্থা সীতাকুণ্ড মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল এবং হাসপাতালে ছুটে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে হত্যার উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্তরা গলা কেটেছিল এবং মৃত ভেবে গহীন জঙ্গলে ফেলে রেখে যায়। এ ঘটনার পেছনে কে বা কারা জড়িত, তা উদ্ঘাটন করতে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে কয়েকজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।এমন অমানবিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির ওপর এমন বর্বরতা চালানো অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনসাধারণ।