দৈনিক গণজাগরণ

কর্মীদের বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ তুলেছেন সারজিস আলম

সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় পঞ্চগড়-১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ তুলেছেন দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পরাজিত প্রার্থী সারজিস আলম।বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সারজিস আলম অভিযোগ করেছেন যে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাত থেকেই পঞ্চগড় সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী উপজেলার ৩০টিরও বেশি স্থানে তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া অনেকের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর এবং কর্মীদের গায়ে আঘাত করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।সারজিস আলম এসব হামলার পেছনে নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপির নেতা-কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যারা অতি উৎসাহী হয়ে এসব কাজ করছেন, তাদের সংশোধিত হওয়া প্রয়োজন। অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ক্ষমতার দম্ভে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর আঘাত করা কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং "এক মাঘে শীত যায় না"।অনুসন্ধানে জানা যায়, তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় স্বপন রানা নামের এক ইজিবাইকচালক এবং তাঁর পরিবার হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। স্বপন রানা সারজিস আলমের 'শাপলা কলি' প্রতীকের কর্মী ছিলেন এবং তাঁর মেয়ে এনসিপির নারী শক্তির একজন সদস্য। স্থানীয় সূত্রমতে, ফলাফল ঘোষণার পর দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মিছিল চলাকালে এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের বাড়ির দরজা-জানালায় আঘাত করে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। তাদের এখনো হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।অন্যদিকে, সারজিস আলমের আনা এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ 'ভিত্তিহীন' বলে প্রত্যাখ্যান করেছে স্থানীয় বিএনপি। পঞ্চগড় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, সারজিস আলম মূলত একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য এমন মনগড়া কথা ছড়াচ্ছেন।তিনি বলেন, "আমাদের বিজয়ী প্রার্থী নওশাদ জমিরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্যই এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। বাস্তবে এ ধরনের কোনো হামলার ঘটনা কোথাও ঘটেনি। যদি সত্যিই এমন কিছু ঘটে থাকে, তবে তার উপযুক্ত প্রমাণ বা ছবি-ভিডিও উপস্থাপন করা হোক।"নির্বাচন-পরবর্তী এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগকে কেন্দ্র করে ওই অঞ্চলে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জয়-পরাজয় থাকবেই, তবে কোনোভাবেই সাধারণ মানুষ বা কর্মীদের ওপর সহিংসতা মেনে নেওয়া যায় না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনকে আরও কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

কর্মীদের বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ তুলেছেন সারজিস আলম