নিজস্ব প্রতিবেদক | রংপুর
বাংলাদেশের উত্তর অঞ্চলের ভৌগোলিক গঠন, কৃষি এবং মানুষের জীবনযাত্রা মূলত নদীকেন্দ্রিক। দীর্ঘকাল ধরে এই অঞ্চলের অর্থনীতি ও পরিবেশকে টিকিয়ে রেখেছে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার এবং আত্রাইয়ের মতো অসংখ্য নদী। বর্তমানে পরিবেশবাদীরা এবং বিশেষজ্ঞরা একটি বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করছেন যে— নদী বাঁচলে তবেই বাঁচবে উত্তরবঙ্গ।
উত্তরবঙ্গের আটটি জেলা মূলত কৃষিপ্রধান। এই অঞ্চলের মাটির উর্বরতা এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সরাসরি নদীর প্রবাহের ওপর নির্ভরশীল। নদীগুলো কেবল মাছ বা পরিবহনের উৎস নয়, বরং এগুলো এই অঞ্চলের জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা করে।
বরেন্দ্র অঞ্চলসহ উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল। নদী শুকিয়ে গেলে সেচ কাজ ব্যাহত হয় এবং মরুকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।
নদীগুলো পানির আধার হিসেবে কাজ করে। নদী শুকিয়ে গেলে পানির স্তর নিচে নেমে যায়, যার ফলে সাধারণ টিউবওয়েলে পানি পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে।
শত শত মানুষের জীবিকা এই নদীগুলোর মাছ এবং জলজ সম্পদের ওপর নির্ভরশীল।
বিগত কয়েক দশকে উজানে বাঁধ নির্মাণ এবং পলি জমে নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় উত্তরবঙ্গ এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে। গ্রীষ্মকালে নদীগুলো মরুভূমিতে পরিণত হয়, আবার বর্ষায় দুকূল ছাপিয়ে দেখা দেয় ভয়াবহ ভাঙন।
"নদী যখন শুকিয়ে যায়, তখন উত্তরবঙ্গের মানচিত্র থেকে সজীবতা হারিয়ে যায়। এটি কেবল পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি এই অঞ্চলের মানুষের অস্তিত্বের সংকট।"
উত্তরবঙ্গকে মরু হওয়া থেকে বাঁচাতে হলে নদী খনন এবং পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত ড্রেজিং প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানির হিস্যা আদায়ে কার্যকর পদক্ষেপ। স্থানীয় পর্যায়ে নদী দখলমুক্ত রাখা এবং বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা।
উত্তরবঙ্গের সবুজ শ্যামল প্রকৃতি ধরে রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ভূমি রেখে যেতে নদীর কোনো বিকল্প নেই। নদীগুলো যদি তাদের প্রবাহ হারায়, তবে উত্তরবঙ্গের কৃষি ধ্বংস হবে এবং মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে। তাই "নদী বাঁচাও, উত্তরবঙ্গ বাঁচাও" এটি এখন কেবল স্লোগান নয়, বরং সময়ের দাবি।

সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক | রংপুর
বাংলাদেশের উত্তর অঞ্চলের ভৌগোলিক গঠন, কৃষি এবং মানুষের জীবনযাত্রা মূলত নদীকেন্দ্রিক। দীর্ঘকাল ধরে এই অঞ্চলের অর্থনীতি ও পরিবেশকে টিকিয়ে রেখেছে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার এবং আত্রাইয়ের মতো অসংখ্য নদী। বর্তমানে পরিবেশবাদীরা এবং বিশেষজ্ঞরা একটি বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করছেন যে— নদী বাঁচলে তবেই বাঁচবে উত্তরবঙ্গ।
উত্তরবঙ্গের আটটি জেলা মূলত কৃষিপ্রধান। এই অঞ্চলের মাটির উর্বরতা এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সরাসরি নদীর প্রবাহের ওপর নির্ভরশীল। নদীগুলো কেবল মাছ বা পরিবহনের উৎস নয়, বরং এগুলো এই অঞ্চলের জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা করে।
বরেন্দ্র অঞ্চলসহ উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল। নদী শুকিয়ে গেলে সেচ কাজ ব্যাহত হয় এবং মরুকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।
নদীগুলো পানির আধার হিসেবে কাজ করে। নদী শুকিয়ে গেলে পানির স্তর নিচে নেমে যায়, যার ফলে সাধারণ টিউবওয়েলে পানি পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে।
শত শত মানুষের জীবিকা এই নদীগুলোর মাছ এবং জলজ সম্পদের ওপর নির্ভরশীল।
বিগত কয়েক দশকে উজানে বাঁধ নির্মাণ এবং পলি জমে নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় উত্তরবঙ্গ এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে। গ্রীষ্মকালে নদীগুলো মরুভূমিতে পরিণত হয়, আবার বর্ষায় দুকূল ছাপিয়ে দেখা দেয় ভয়াবহ ভাঙন।
"নদী যখন শুকিয়ে যায়, তখন উত্তরবঙ্গের মানচিত্র থেকে সজীবতা হারিয়ে যায়। এটি কেবল পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি এই অঞ্চলের মানুষের অস্তিত্বের সংকট।"
উত্তরবঙ্গকে মরু হওয়া থেকে বাঁচাতে হলে নদী খনন এবং পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত ড্রেজিং প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানির হিস্যা আদায়ে কার্যকর পদক্ষেপ। স্থানীয় পর্যায়ে নদী দখলমুক্ত রাখা এবং বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা।
উত্তরবঙ্গের সবুজ শ্যামল প্রকৃতি ধরে রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ভূমি রেখে যেতে নদীর কোনো বিকল্প নেই। নদীগুলো যদি তাদের প্রবাহ হারায়, তবে উত্তরবঙ্গের কৃষি ধ্বংস হবে এবং মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে। তাই "নদী বাঁচাও, উত্তরবঙ্গ বাঁচাও" এটি এখন কেবল স্লোগান নয়, বরং সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন