দৈনিক গণজাগরণ

প্রকৌশল বিদ্যা নিয়ে ৫টি প্রচলিত ভুল ধারণা ও বাস্তবতা



প্রকৌশল বিদ্যা নিয়ে ৫টি প্রচলিত ভুল ধারণা ও বাস্তবতা
সংগৃহিত

১. ইঞ্জিনিয়ারিং মানেই শুধু গণিত আর পদার্থবিজ্ঞান

অনেকে মনে করেন প্রকৌশলী হতে হলে আপনাকে শুধু জটিল সব গাণিতিক সমীকরণ সমাধান করতে হবে। এটি আংশিক সত্য। গণিত এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রকৌশল বিদ্যার ভিত্তি, কিন্তু পেশাগত জীবনে Analytical Thinking (বিশ্লেষণাত্মক চিন্তা) এবং Problem Solving (সমস্যা সমাধান) দক্ষতা বেশি প্রয়োজন। শুধু মুখস্থ বিদ্যা দিয়ে ভালো ইঞ্জিনিয়ার হওয়া অসম্ভব।

২. ইঞ্জিনিয়াররা শুধু যন্ত্র বা কনস্ট্রাকশন নিয়ে কাজ করেন

সাধারণ মানুষের ধারণা ইঞ্জিনিয়ার মানেই মাথায় হেলমেট পরে বিল্ডিং বানানো অথবা সারাদিন হাতুড়ি-বল্টু নিয়ে পড়ে থাকা। বর্তমানে প্রকৌশল বিদ্যার পরিধি বিশাল। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বা এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো শাখাগুলোতে কাজের ধরন সম্পূর্ণ আলাদা এবং অনেক ক্ষেত্রে তা ল্যাবরেটরি বা কম্পিউটার ভিত্তিক।

৩. এটি কেবল ছেলেদের পেশা

এটি একটি অত্যন্ত প্রাচীন এবং ভুল ধারণা। বর্তমান বিশ্বে এবং আমাদের দেশেও সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল কিংবা মেকানিক্যাল—সব বিভাগেই মেয়েরা তাদের মেধার স্বাক্ষর রাখছেন। অনেক মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে এখন নারী প্রকৌশলীদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রমে নারী-পুরুষের কোনো ভেদাভেদ নেই।

৪. ডিগ্রি শেষ করলেই লক্ষ টাকার চাকরি

অনেকে মনে করেন ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করলেই সাথে সাথে বড় বেতনের চাকরি পাওয়া যায়। বাস্তবতা হলো, ডিগ্রি আপনাকে ইন্টারভিউ পর্যন্ত নিয়ে যাবে, কিন্তু চাকরি পেতে হলে আপনার টেকনিক্যাল স্কিল এবং প্র্যাকটিক্যাল জ্ঞান থাকতে হবে। শুরুর দিকে অনেককেই সাধারণ বেতনে কাজ শুরু করে ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়।

৫. ইঞ্জিনিয়ারদের যোগাযোগ দক্ষতা বা ক্রিয়েটিভিটির দরকার নেই

অনেকে ভাবেন ইঞ্জিনিয়াররা সারাদিন গম্ভীর হয়ে একা একা কাজ করেন। আসলে একজন প্রকৌশলীকে একটি বড় টিমের সাথে কাজ করতে হয়। তাই অন্যদের সাথে কথা বলা বা Communication Skill অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি নতুন নতুন ডিজাইন বা সমাধান বের করার জন্য প্রচুর Creativity বা সৃজনশীলতার প্রয়োজন হয়।


ইঞ্জিনিয়ারিং কেবল একটি ডিগ্রি নয়, এটি একটি জীবনদর্শন যা আপনাকে পৃথিবীকে নতুনভাবে দেখতে শেখায়। যদি আপনার নতুন কিছু সৃষ্টির নেশা থাকে এবং সমস্যা সমাধানের ধৈর্য থাকে, তবেই এই পেশা আপনার জন্য।


আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক গণজাগরণ

সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬


প্রকৌশল বিদ্যা নিয়ে ৫টি প্রচলিত ভুল ধারণা ও বাস্তবতা

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

১. ইঞ্জিনিয়ারিং মানেই শুধু গণিত আর পদার্থবিজ্ঞান

অনেকে মনে করেন প্রকৌশলী হতে হলে আপনাকে শুধু জটিল সব গাণিতিক সমীকরণ সমাধান করতে হবে। এটি আংশিক সত্য। গণিত এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রকৌশল বিদ্যার ভিত্তি, কিন্তু পেশাগত জীবনে Analytical Thinking (বিশ্লেষণাত্মক চিন্তা) এবং Problem Solving (সমস্যা সমাধান) দক্ষতা বেশি প্রয়োজন। শুধু মুখস্থ বিদ্যা দিয়ে ভালো ইঞ্জিনিয়ার হওয়া অসম্ভব।

২. ইঞ্জিনিয়াররা শুধু যন্ত্র বা কনস্ট্রাকশন নিয়ে কাজ করেন

সাধারণ মানুষের ধারণা ইঞ্জিনিয়ার মানেই মাথায় হেলমেট পরে বিল্ডিং বানানো অথবা সারাদিন হাতুড়ি-বল্টু নিয়ে পড়ে থাকা। বর্তমানে প্রকৌশল বিদ্যার পরিধি বিশাল। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বা এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো শাখাগুলোতে কাজের ধরন সম্পূর্ণ আলাদা এবং অনেক ক্ষেত্রে তা ল্যাবরেটরি বা কম্পিউটার ভিত্তিক।

৩. এটি কেবল ছেলেদের পেশা

এটি একটি অত্যন্ত প্রাচীন এবং ভুল ধারণা। বর্তমান বিশ্বে এবং আমাদের দেশেও সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল কিংবা মেকানিক্যাল—সব বিভাগেই মেয়েরা তাদের মেধার স্বাক্ষর রাখছেন। অনেক মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে এখন নারী প্রকৌশলীদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রমে নারী-পুরুষের কোনো ভেদাভেদ নেই।

৪. ডিগ্রি শেষ করলেই লক্ষ টাকার চাকরি

অনেকে মনে করেন ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করলেই সাথে সাথে বড় বেতনের চাকরি পাওয়া যায়। বাস্তবতা হলো, ডিগ্রি আপনাকে ইন্টারভিউ পর্যন্ত নিয়ে যাবে, কিন্তু চাকরি পেতে হলে আপনার টেকনিক্যাল স্কিল এবং প্র্যাকটিক্যাল জ্ঞান থাকতে হবে। শুরুর দিকে অনেককেই সাধারণ বেতনে কাজ শুরু করে ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়।

৫. ইঞ্জিনিয়ারদের যোগাযোগ দক্ষতা বা ক্রিয়েটিভিটির দরকার নেই

অনেকে ভাবেন ইঞ্জিনিয়াররা সারাদিন গম্ভীর হয়ে একা একা কাজ করেন। আসলে একজন প্রকৌশলীকে একটি বড় টিমের সাথে কাজ করতে হয়। তাই অন্যদের সাথে কথা বলা বা Communication Skill অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি নতুন নতুন ডিজাইন বা সমাধান বের করার জন্য প্রচুর Creativity বা সৃজনশীলতার প্রয়োজন হয়।


ইঞ্জিনিয়ারিং কেবল একটি ডিগ্রি নয়, এটি একটি জীবনদর্শন যা আপনাকে পৃথিবীকে নতুনভাবে দেখতে শেখায়। যদি আপনার নতুন কিছু সৃষ্টির নেশা থাকে এবং সমস্যা সমাধানের ধৈর্য থাকে, তবেই এই পেশা আপনার জন্য।



দৈনিক গণজাগরণ

সম্পাদক ও প্রকাশক- তপন রায় , প্রধান নির্বাহী সম্পাদক : আরমান ইসলাম , বার্তা সম্পাদক : বিধান রায়
দৈনিক গণজাগরণ