বাগেরহাটের সুন্দরবন সংলগ্ন দুবলার চরে শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ মৌসুমে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্র। স্থানীয়ভাবে ‘সাহেব সিন্ডিকেট’ নামে পরিচিত এই গোষ্ঠীটির কারণে সাধারণ জেলেরা তাদের উৎপাদিত শুঁটকি ন্যায্যমূল্যে এবং স্বাধীনভাবে বিক্রি করতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, দুবলার চরের শুঁটকি পল্লীতে জেলেরা হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে মাছ সংগ্রহ ও শুঁটকি তৈরি করলেও তার সুফল ভোগ করছে নির্দিষ্ট কিছু মধ্যস্বত্বভোগী। অভিযোগ রয়েছে, এই ‘সাহেব সিন্ডিকেট’-এর অনুমতি বা মধ্যস্থতা ছাড়া কোনো জেলের পক্ষেই বাইরের পাইকারদের কাছে সরাসরি শুঁটকি বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জেলেরা অনেকটা জিম্মি দশায় দিন কাটাচ্ছেন।
মৌসুমের শুরুতেই অনেক জেলে এই সিন্ডিকেটের সদস্যদের কাছ থেকে চড়া সুদে দাদন (অগ্রিম অর্থ) নিতে বাধ্য হন। শর্ত থাকে যে, উৎপাদিত সব শুঁটকি নির্দিষ্ট মূল্যে তাদের কাছেই বিক্রি করতে হবে।
কোনো জেলে যদি বাইরের পাইকারদের কাছে বেশি দামে শুঁটকি বিক্রি করার চেষ্টা করেন, তবে সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করা হয়। এমনকি চরে অবস্থান করাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে শুঁটকি কিনে নিয়ে এই চক্রটি পরবর্তীতে বড় বড় আড়তে চড়া দামে বিক্রি করে বিপুল মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক হাজার জেলে দুবলার চরের আলোরকোলসহ বিভিন্ন অস্থায়ী পল্লীতে অবস্থান করছেন। তারা বলছেন, হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পর মাছ শুকিয়ে যখন বিক্রির সময় আসে, তখন এই সিন্ডিকেটের খবরদারি তাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে। এই চক্রের প্রভাবে সরকারের রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দুবলার চরের শুঁটকি শিল্পকে বাঁচাতে হলে এই অদৃশ্য সিন্ডিকেট বা ‘সাহেব সিন্ডিকেট’-এর দৌরাত্ম্য বন্ধ করা জরুরি। সাধারণ জেলেরা দাবি জানিয়েছেন, যেন তারা সরাসরি খোলা বাজারে পণ্য বিক্রি করতে পারেন এবং প্রশাসন যেন এই চরে একটি স্বচ্ছ ক্রয়-বিক্রয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করে।

সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
বাগেরহাটের সুন্দরবন সংলগ্ন দুবলার চরে শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ মৌসুমে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্র। স্থানীয়ভাবে ‘সাহেব সিন্ডিকেট’ নামে পরিচিত এই গোষ্ঠীটির কারণে সাধারণ জেলেরা তাদের উৎপাদিত শুঁটকি ন্যায্যমূল্যে এবং স্বাধীনভাবে বিক্রি করতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, দুবলার চরের শুঁটকি পল্লীতে জেলেরা হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে মাছ সংগ্রহ ও শুঁটকি তৈরি করলেও তার সুফল ভোগ করছে নির্দিষ্ট কিছু মধ্যস্বত্বভোগী। অভিযোগ রয়েছে, এই ‘সাহেব সিন্ডিকেট’-এর অনুমতি বা মধ্যস্থতা ছাড়া কোনো জেলের পক্ষেই বাইরের পাইকারদের কাছে সরাসরি শুঁটকি বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জেলেরা অনেকটা জিম্মি দশায় দিন কাটাচ্ছেন।
মৌসুমের শুরুতেই অনেক জেলে এই সিন্ডিকেটের সদস্যদের কাছ থেকে চড়া সুদে দাদন (অগ্রিম অর্থ) নিতে বাধ্য হন। শর্ত থাকে যে, উৎপাদিত সব শুঁটকি নির্দিষ্ট মূল্যে তাদের কাছেই বিক্রি করতে হবে।
কোনো জেলে যদি বাইরের পাইকারদের কাছে বেশি দামে শুঁটকি বিক্রি করার চেষ্টা করেন, তবে সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করা হয়। এমনকি চরে অবস্থান করাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে শুঁটকি কিনে নিয়ে এই চক্রটি পরবর্তীতে বড় বড় আড়তে চড়া দামে বিক্রি করে বিপুল মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক হাজার জেলে দুবলার চরের আলোরকোলসহ বিভিন্ন অস্থায়ী পল্লীতে অবস্থান করছেন। তারা বলছেন, হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পর মাছ শুকিয়ে যখন বিক্রির সময় আসে, তখন এই সিন্ডিকেটের খবরদারি তাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে। এই চক্রের প্রভাবে সরকারের রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দুবলার চরের শুঁটকি শিল্পকে বাঁচাতে হলে এই অদৃশ্য সিন্ডিকেট বা ‘সাহেব সিন্ডিকেট’-এর দৌরাত্ম্য বন্ধ করা জরুরি। সাধারণ জেলেরা দাবি জানিয়েছেন, যেন তারা সরাসরি খোলা বাজারে পণ্য বিক্রি করতে পারেন এবং প্রশাসন যেন এই চরে একটি স্বচ্ছ ক্রয়-বিক্রয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করে।

আপনার মতামত লিখুন