রাষ্ট্রীয় অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে মন্ত্রীদের একক ইচ্ছায় প্রকল্প অনুমোদনের বিশেষ ক্ষমতায় লাগাম টেনেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এখন থেকে বড় বা ছোট যেকোনো প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এবং যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে জনগুরুত্ব বিবেচনা না করেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা ব্যক্তি স্বার্থে অনেক প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হতো। এর ফলে:
বাজেট ঘাটতি: অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় হওয়ায় মূল ধারার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতো।
দুর্নীতির সুযোগ: যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রকল্প অনুমোদনের ফলে দরপত্র ও বাস্তবায়নে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হতো।
অসম উন্নয়ন: কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় অধিক প্রকল্প এবং অন্য এলাকায় অবহেলার চিত্র ফুটে উঠত।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন থেকে প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে নিচের ধাপগুলো কঠোরভাবে পালন করতে হবে:
| বিশেষত্ব | আগের নিয়ম | বর্তমান নিয়ম |
| অনুমোদন প্রক্রিয়া | মন্ত্রীরা বিশেষ ক্ষমতা বলে অনেক সময় ফাইল সই করতেন। | পরিকল্পনা কমিশনের কারিগরি কমিটির সুপারিশ ছাড়া ফাইল অনুমোদন হবে না। |
| ব্যয় নির্ধারণ | প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ইচ্ছামতো বাড়ানোর সুযোগ ছিল। | বাজার দর যাচাই ও থার্ড পার্টি অডিট বাধ্যতামূলক। |
| অগ্রাধিকার | রাজনৈতিক ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়া হতো। | জনকল্যাণ ও অর্থনৈতিক লাভ (ROI) যাচাই করে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। |
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মূলত বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প বা মেগা প্রজেক্টের নামে জনগণের করের টাকার লুটপাট বন্ধ করতেই এই উদ্যোগ। এখন থেকে প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে তাদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (ADP) বাইরে কোনো প্রকল্প নিতে হলে মন্ত্রিপরিষদ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টার বিশেষ ছাড়পত্র নিতে হবে। এতে করে প্রশাসনে জবাবদিহিতা বাড়বে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার চেয়ে গুণগত কাজের মান রক্ষা পাবে।

সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
রাষ্ট্রীয় অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে মন্ত্রীদের একক ইচ্ছায় প্রকল্প অনুমোদনের বিশেষ ক্ষমতায় লাগাম টেনেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এখন থেকে বড় বা ছোট যেকোনো প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এবং যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে জনগুরুত্ব বিবেচনা না করেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা ব্যক্তি স্বার্থে অনেক প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হতো। এর ফলে:
বাজেট ঘাটতি: অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় হওয়ায় মূল ধারার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতো।
দুর্নীতির সুযোগ: যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রকল্প অনুমোদনের ফলে দরপত্র ও বাস্তবায়নে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হতো।
অসম উন্নয়ন: কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় অধিক প্রকল্প এবং অন্য এলাকায় অবহেলার চিত্র ফুটে উঠত।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন থেকে প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে নিচের ধাপগুলো কঠোরভাবে পালন করতে হবে:
| বিশেষত্ব | আগের নিয়ম | বর্তমান নিয়ম |
| অনুমোদন প্রক্রিয়া | মন্ত্রীরা বিশেষ ক্ষমতা বলে অনেক সময় ফাইল সই করতেন। | পরিকল্পনা কমিশনের কারিগরি কমিটির সুপারিশ ছাড়া ফাইল অনুমোদন হবে না। |
| ব্যয় নির্ধারণ | প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ইচ্ছামতো বাড়ানোর সুযোগ ছিল। | বাজার দর যাচাই ও থার্ড পার্টি অডিট বাধ্যতামূলক। |
| অগ্রাধিকার | রাজনৈতিক ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়া হতো। | জনকল্যাণ ও অর্থনৈতিক লাভ (ROI) যাচাই করে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। |
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মূলত বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প বা মেগা প্রজেক্টের নামে জনগণের করের টাকার লুটপাট বন্ধ করতেই এই উদ্যোগ। এখন থেকে প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে তাদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (ADP) বাইরে কোনো প্রকল্প নিতে হলে মন্ত্রিপরিষদ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টার বিশেষ ছাড়পত্র নিতে হবে। এতে করে প্রশাসনে জবাবদিহিতা বাড়বে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার চেয়ে গুণগত কাজের মান রক্ষা পাবে।

আপনার মতামত লিখুন