দৈনিক গণজাগরণ

বিশ্বমানের বাজে লিগের তালিকায় বাংলাদেশ বিপিএল, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব ও প্রশ্নবিদ্ধ ব্যবস্থাপনা



বিশ্বমানের বাজে লিগের তালিকায় বাংলাদেশ বিপিএল, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব ও প্রশ্নবিদ্ধ ব্যবস্থাপনা

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই লিগের মান, ব্যবস্থাপনা এবং জৌলুস নিয়ে দেশি-বিদেশি ক্রীড়া মহলে নানা নেতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্বের অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের তুলনায় বিপিএল কতটা পিছিয়ে পড়ছে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বিতর্ক তুঙ্গে।

 আইপিএল বা পিএসএল-এর মতো লিগগুলোতে যে মানের ব্রডকাস্টিং এবং আধুনিক প্রযুক্তি (যেমন: উন্নত মানের ডিআরএস বা হক-আই) ব্যবহার করা হয়, বিপিএলে তার ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে টুর্নামেন্টের শুরুতে ডিআরএস না থাকা লিগের মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

 একই সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার SA20 এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ILT20 লিগ চলায় বিশ্বসেরা অনেক তারকা ক্রিকেটার বিপিএল এড়িয়ে চলছেন। ফলে টুর্নামেন্টটি তার আন্তর্জাতিক জৌলুস হারাচ্ছে।

 ড্রাফট পদ্ধতি, আম্পায়ারিংয়ের মান এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাবকে সমালোচকরা বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন। বারবার নিয়ম পরিবর্তন এবং পেশাদারিত্বের অভাবের কারণে এটি বিশ্বমানের লিগ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হিমশিম খাচ্ছে।

যদিও মাঠের ক্রিকেটে অনেক উত্তেজনা দেখা যায় এবং গ্যালারি ভরা দর্শক থাকে, তবুও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিশ্লেষকদের রেটিংয়ে বিপিএল অনেকটাই নিচের সারিতে চলে এসেছে। এমনকি খোদ সাকিব আল হাসানের মতো তারকা ক্রিকেটারও অতীতে বিপিএলের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন, যা এই নেতিবাচক প্রচারণাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

বিপিএলকে আবারো এশিয়ার অন্যতম সেরা লিগ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বিসিবি-কে কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে:

১. পূর্ণাঙ্গ ডিআরএস এবং উন্নত প্রযুক্তির স্থায়ী নিশ্চয়তা।

২. ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সাথে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি (অন্তত ৫-১০ বছর)।

৩. টুর্নামেন্টের নির্দিষ্ট এবং স্থায়ী সময়সূচি নির্ধারণ।

বিপিএল নিয়ে যে সমালোচনাগুলো শোনা যাচ্ছে, তা দেশের ক্রিকেটের জন্য একটি সতর্কবার্তা। সঠিক পরিকল্পনা এবং পেশাদারিত্বের ছাপ রাখতে না পারলে এই টুর্নামেন্টটি কেবল একটি ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক গণজাগরণ

সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬


বিশ্বমানের বাজে লিগের তালিকায় বাংলাদেশ বিপিএল, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব ও প্রশ্নবিদ্ধ ব্যবস্থাপনা

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই লিগের মান, ব্যবস্থাপনা এবং জৌলুস নিয়ে দেশি-বিদেশি ক্রীড়া মহলে নানা নেতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্বের অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের তুলনায় বিপিএল কতটা পিছিয়ে পড়ছে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বিতর্ক তুঙ্গে।

 আইপিএল বা পিএসএল-এর মতো লিগগুলোতে যে মানের ব্রডকাস্টিং এবং আধুনিক প্রযুক্তি (যেমন: উন্নত মানের ডিআরএস বা হক-আই) ব্যবহার করা হয়, বিপিএলে তার ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে টুর্নামেন্টের শুরুতে ডিআরএস না থাকা লিগের মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

 একই সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার SA20 এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ILT20 লিগ চলায় বিশ্বসেরা অনেক তারকা ক্রিকেটার বিপিএল এড়িয়ে চলছেন। ফলে টুর্নামেন্টটি তার আন্তর্জাতিক জৌলুস হারাচ্ছে।

 ড্রাফট পদ্ধতি, আম্পায়ারিংয়ের মান এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাবকে সমালোচকরা বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন। বারবার নিয়ম পরিবর্তন এবং পেশাদারিত্বের অভাবের কারণে এটি বিশ্বমানের লিগ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হিমশিম খাচ্ছে।

যদিও মাঠের ক্রিকেটে অনেক উত্তেজনা দেখা যায় এবং গ্যালারি ভরা দর্শক থাকে, তবুও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিশ্লেষকদের রেটিংয়ে বিপিএল অনেকটাই নিচের সারিতে চলে এসেছে। এমনকি খোদ সাকিব আল হাসানের মতো তারকা ক্রিকেটারও অতীতে বিপিএলের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন, যা এই নেতিবাচক প্রচারণাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

বিপিএলকে আবারো এশিয়ার অন্যতম সেরা লিগ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বিসিবি-কে কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে:

১. পূর্ণাঙ্গ ডিআরএস এবং উন্নত প্রযুক্তির স্থায়ী নিশ্চয়তা।

২. ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সাথে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি (অন্তত ৫-১০ বছর)।

৩. টুর্নামেন্টের নির্দিষ্ট এবং স্থায়ী সময়সূচি নির্ধারণ।

বিপিএল নিয়ে যে সমালোচনাগুলো শোনা যাচ্ছে, তা দেশের ক্রিকেটের জন্য একটি সতর্কবার্তা। সঠিক পরিকল্পনা এবং পেশাদারিত্বের ছাপ রাখতে না পারলে এই টুর্নামেন্টটি কেবল একটি ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।



দৈনিক গণজাগরণ

সম্পাদক ও প্রকাশক- তপন রায় , প্রধান নির্বাহী সম্পাদক : আরমান ইসলাম , বার্তা সম্পাদক : বিধান রায়
দৈনিক গণজাগরণ