দৈনিক গণজাগরণ

১০ লাখ টাকা ছাড়া ফাইল নড়ছে না! ঘুষের রাজত্ব নিয়ে মুখ খুললেন আজম জে চৌধুরী



১০ লাখ টাকা ছাড়া ফাইল নড়ছে না! ঘুষের রাজত্ব নিয়ে মুখ খুললেন আজম জে চৌধুরী


দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির শেকড় কতটা গভীরে পৌঁছেছে, তা নিয়ে সম্প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ। বর্তমানে এই খাতে ঘুস ও অনিয়মের মাত্রা অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিশেষ করে নিয়োগ বাণিজ্য এবং লাইসেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে লেনদেনের অংক এখন আকাশচুম্বী।
দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা এবং ইস্ট Coast গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী সম্প্রতি জ্বালানি খাতের বিশৃঙ্খলা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তার মতে, একটা সময় যে কাজের জন্য এক লাখ টাকা ঘুস দিতে হতো, বর্তমানে সেই একই কাজের জন্য দাবি করা হচ্ছে ১০ লাখ টাকা। অর্থাৎ, দুর্নীতির হার বেড়েছে প্রায় ১০ গুণ।
তিনি উল্লেখ করেন যে, এই বিশাল অংকের অবৈধ লেনদেন মূলত জ্বালানি খাতের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের পকেটে যাচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি ব্যয়ের বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

বিভিন্ন সূত্র ও ব্যবসায়িক পর্যালোচনায় জ্বালানি খাতের দুর্নীতির কয়েকটি বিশেষ দিক উঠে এসেছে:
নিয়োগ বাণিজ্য: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের বিভিন্ন সংস্থায় জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। যোগ্য প্রার্থীরা বাদ পড়ে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে অযোগ্যরা জায়গা করে নিচ্ছে।
লাইসেন্স ও পারমিট: নতুন কোনো প্রকল্পের অনুমোদন বা নবায়নের ক্ষেত্রে পদে পদে হয়রানি এবং ঘুসের দাবি এখন ওপেন সিক্রেট।
সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ: একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে, যার ফলে সৎ ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন।

জ্বালানি খাতে এই লাগামহীন দুর্নীতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে। ঘুসের কারণে প্রকল্পের খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বারবার সমন্বয় করতে হচ্ছে। এতে শিল্প উৎপাদন যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

"যদি এই খাতে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না যায়, তবে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। ১০ গুণ বেশি ঘুসের এই সংস্কৃতি ব্যবসার পরিবেশ নষ্ট করছে।"


ব্যবসায়ী মহলের মতে, সরকারি পর্যায়ে কঠোর তদারকি এবং ডিজিটাল সিস্টেম চালুর মাধ্যমে মানুষের হস্তক্ষেপ কমানো গেলে এই ভয়াবহ দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক গণজাগরণ

সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬


১০ লাখ টাকা ছাড়া ফাইল নড়ছে না! ঘুষের রাজত্ব নিয়ে মুখ খুললেন আজম জে চৌধুরী

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image


দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির শেকড় কতটা গভীরে পৌঁছেছে, তা নিয়ে সম্প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ। বর্তমানে এই খাতে ঘুস ও অনিয়মের মাত্রা অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিশেষ করে নিয়োগ বাণিজ্য এবং লাইসেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে লেনদেনের অংক এখন আকাশচুম্বী।
দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা এবং ইস্ট Coast গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী সম্প্রতি জ্বালানি খাতের বিশৃঙ্খলা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তার মতে, একটা সময় যে কাজের জন্য এক লাখ টাকা ঘুস দিতে হতো, বর্তমানে সেই একই কাজের জন্য দাবি করা হচ্ছে ১০ লাখ টাকা। অর্থাৎ, দুর্নীতির হার বেড়েছে প্রায় ১০ গুণ।
তিনি উল্লেখ করেন যে, এই বিশাল অংকের অবৈধ লেনদেন মূলত জ্বালানি খাতের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের পকেটে যাচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি ব্যয়ের বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

বিভিন্ন সূত্র ও ব্যবসায়িক পর্যালোচনায় জ্বালানি খাতের দুর্নীতির কয়েকটি বিশেষ দিক উঠে এসেছে:
নিয়োগ বাণিজ্য: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের বিভিন্ন সংস্থায় জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। যোগ্য প্রার্থীরা বাদ পড়ে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে অযোগ্যরা জায়গা করে নিচ্ছে।
লাইসেন্স ও পারমিট: নতুন কোনো প্রকল্পের অনুমোদন বা নবায়নের ক্ষেত্রে পদে পদে হয়রানি এবং ঘুসের দাবি এখন ওপেন সিক্রেট।
সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ: একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে, যার ফলে সৎ ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন।

জ্বালানি খাতে এই লাগামহীন দুর্নীতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে। ঘুসের কারণে প্রকল্পের খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বারবার সমন্বয় করতে হচ্ছে। এতে শিল্প উৎপাদন যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

"যদি এই খাতে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না যায়, তবে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। ১০ গুণ বেশি ঘুসের এই সংস্কৃতি ব্যবসার পরিবেশ নষ্ট করছে।"


ব্যবসায়ী মহলের মতে, সরকারি পর্যায়ে কঠোর তদারকি এবং ডিজিটাল সিস্টেম চালুর মাধ্যমে মানুষের হস্তক্ষেপ কমানো গেলে এই ভয়াবহ দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব।


দৈনিক গণজাগরণ

সম্পাদক ও প্রকাশক- তপন রায় , প্রধান নির্বাহী সম্পাদক : আরমান ইসলাম , বার্তা সম্পাদক : বিধান রায়
দৈনিক গণজাগরণ