দৈনিক গণজাগরণ

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার আগেই নাগরিক দায়িত্ব: বরবেশে ভোট দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন


দৈনিক গণজাগরণ
দৈনিক গণজাগরণ
প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার আগেই নাগরিক দায়িত্ব: বরবেশে ভোট দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন

সারাদেশে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। উৎসবমুখর পরিবেশে সকাল থেকেই ভোটগ্রহণ চলছে। ভোটের মাঠে নানা বয়সী ও শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি থাকলেও, আজ এক ভোটকেন্দ্রে দেখা মিলল এক বিরল ও চিত্তাকর্ষক দৃশ্যের। বিয়ের আসরে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে, বরবেশেই ভোট দিতে কেন্দ্রে হাজির হয়েছেন এক তরুণ।

আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনের দিনে এই ঘটনাটি সাধারণ ভোটার ও উপস্থিত কর্মকর্তাদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও উৎসাহের সৃষ্টি করেছে।

সকাল থেকেই কেন্দ্রের সামনে ভোটারদের দীর্ঘ সারি। এরই মধ্যে হঠাৎ করেই সবার দৃষ্টি কাড়েন শেরওয়ানি ও মাথায় পাগড়ি পরিহিত এক যুবক। তিনি বিয়ের সম্পূর্ণ সাজপোশাকেই ভোট দিতে এসেছেন। সাধারণত বিয়ের দিনে বর-কনে নানা ব্যস্ততার মধ্যে থাকেন, কিন্তু এই যুবক প্রমাণ করলেন যে ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনেও নাগরিক দায়িত্ব পালন করা সম্ভব।

ভোট প্রদান শেষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন ওই নববিবাহিত (বা হবু) বর। তার চোখে-মুখে ছিল উচ্ছ্বাস। তিনি হাসিমুখে বলেন, “আগে ভোট, পরে বিয়ে।”

তার এই সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্যটি সেখানে উপস্থিত অনেকেরই মন জয় করে নেয়। তিনি জানান, দেশের নাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়া তার পবিত্র দায়িত্ব। নতুন জীবনে পদার্পণের আগে নিজের পছন্দমতো প্রতিনিধি নির্বাচন করে যাওয়াটাকেই তিনি শ্রেয় মনে করেছেন।

বরের এমন দেশপ্রেম ও সচেতনতা দেখে লাইনে দাঁড়ানো অন্য ভোটাররাও বেশ অনুপ্রাণিত হন। অনেকেই মন্তব্য করেন, যেখানে সামান্য অজুহাতে মানুষ ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন, সেখানে বিয়ের মতো বড় অনুষ্ঠানের দিনেও এই যুবকের উপস্থিতি গণতন্ত্রের প্রতি তার শ্রদ্ধাবোধেরই বহিঃপ্রকাশ।

নির্বাচনী কর্মকর্তারাও বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করেন, তরুণ প্রজন্মের এমন সচেতনতাই একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর আগামী গড়ার ভিত্তি।


আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক গণজাগরণ

সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬


বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার আগেই নাগরিক দায়িত্ব: বরবেশে ভোট দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন

প্রকাশের তারিখ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

সারাদেশে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। উৎসবমুখর পরিবেশে সকাল থেকেই ভোটগ্রহণ চলছে। ভোটের মাঠে নানা বয়সী ও শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি থাকলেও, আজ এক ভোটকেন্দ্রে দেখা মিলল এক বিরল ও চিত্তাকর্ষক দৃশ্যের। বিয়ের আসরে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে, বরবেশেই ভোট দিতে কেন্দ্রে হাজির হয়েছেন এক তরুণ।

আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনের দিনে এই ঘটনাটি সাধারণ ভোটার ও উপস্থিত কর্মকর্তাদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও উৎসাহের সৃষ্টি করেছে।

সকাল থেকেই কেন্দ্রের সামনে ভোটারদের দীর্ঘ সারি। এরই মধ্যে হঠাৎ করেই সবার দৃষ্টি কাড়েন শেরওয়ানি ও মাথায় পাগড়ি পরিহিত এক যুবক। তিনি বিয়ের সম্পূর্ণ সাজপোশাকেই ভোট দিতে এসেছেন। সাধারণত বিয়ের দিনে বর-কনে নানা ব্যস্ততার মধ্যে থাকেন, কিন্তু এই যুবক প্রমাণ করলেন যে ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনেও নাগরিক দায়িত্ব পালন করা সম্ভব।

ভোট প্রদান শেষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন ওই নববিবাহিত (বা হবু) বর। তার চোখে-মুখে ছিল উচ্ছ্বাস। তিনি হাসিমুখে বলেন, “আগে ভোট, পরে বিয়ে।”

তার এই সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্যটি সেখানে উপস্থিত অনেকেরই মন জয় করে নেয়। তিনি জানান, দেশের নাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়া তার পবিত্র দায়িত্ব। নতুন জীবনে পদার্পণের আগে নিজের পছন্দমতো প্রতিনিধি নির্বাচন করে যাওয়াটাকেই তিনি শ্রেয় মনে করেছেন।

বরের এমন দেশপ্রেম ও সচেতনতা দেখে লাইনে দাঁড়ানো অন্য ভোটাররাও বেশ অনুপ্রাণিত হন। অনেকেই মন্তব্য করেন, যেখানে সামান্য অজুহাতে মানুষ ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন, সেখানে বিয়ের মতো বড় অনুষ্ঠানের দিনেও এই যুবকের উপস্থিতি গণতন্ত্রের প্রতি তার শ্রদ্ধাবোধেরই বহিঃপ্রকাশ।

নির্বাচনী কর্মকর্তারাও বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করেন, তরুণ প্রজন্মের এমন সচেতনতাই একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর আগামী গড়ার ভিত্তি।



দৈনিক গণজাগরণ

সম্পাদক ও প্রকাশক- তপন রায় , প্রধান নির্বাহী সম্পাদক : আরমান ইসলাম , বার্তা সম্পাদক : বিধান রায়
দৈনিক গণজাগরণ