দৈনিক গণজাগরণ

অভিজ্ঞ কমান্ডারের শূন্যতা মধ্যপ্রাচ্যে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ইরান


দৈনিক গণজাগরণ
দৈনিক গণজাগরণ
প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

অভিজ্ঞ কমান্ডারের শূন্যতা মধ্যপ্রাচ্যে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ সব সময়ই ঊর্ধ্বমুখী। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মাঝে অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক দেশ ইরান বর্তমানে এক গভীর এবং কৌশলগত সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একের পর এক শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ও অভিজ্ঞ সেনাপতিদের হারিয়ে এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে দেশটি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, শীর্ষস্থানীয় এই সামরিক কর্মকর্তাদের হারানোর শূন্যতা পূরণ করা ইরানের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইরানের সামরিক শক্তি, বিশেষ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এবং এর এলিট শাখা 'কুদস ফোর্স' মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তারের মূল চাবিকাঠি। কিন্তু গত কয়েক বছরে সিরিয়া, লেবানন এবং খোদ ইরানের মাটিতে একাধিক গুপ্তহত্যা ও লক্ষ্যবস্তু করে চালানো হামলায় (টার্গেটেড কিলিং) প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সামরিক কৌশলবিদ।

এই কমান্ডাররা শুধু রণাঙ্গনের সেনাপতিই ছিলেন না, বরং তারা ছিলেন মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর (যেমন- হিজবুল্লাহ, হামাস, হুথি ইত্যাদি) সাথে যোগাযোগের মূল সেতুবন্ধন। তাদের মৃত্যুতে যে প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের জাল ছিন্ন হয়েছে, তা রাতারাতি পুনর্গঠন করা প্রায় অসম্ভব।

একের পর এক শীর্ষ সামরিক কর্তার অবস্থান শনাক্ত হওয়া এবং নিখুঁত হামলার শিকার হওয়ার ঘটনা ইরানের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। আন্তর্জাতিক সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রগুলো ইরানের সামরিক কাঠামোর বেশ গভীরে অনুপ্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে। এই 'ক্ষত' নিয়ে লড়াই করা ইরানের জন্য এখন দ্বিমুখী সংকট— একদিকে বহির্বিশ্বে প্রভাব ধরে রাখা, অন্যদিকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নিশ্ছিদ্র করা।

শীর্ষ নেতৃত্ব হারানোর এই ধাক্কা সামলে উঠতে ইরান তাদের সামরিক ও কৌশলগত দিকনির্দেশনায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনছে বলে জানা যায়। নতুন প্রজন্মের কমান্ডারদের দ্রুত দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও গোপনীয়তা ও প্রযুক্তিগত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। এত বড় ক্ষতির পরও ইরান তাদের আঞ্চলিক নীতি থেকে সরে আসেনি, বরং নিজেদের শক্তি ও প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রমাণ করতে তারা মরিয়া।

তবে বাস্তব পরিস্থিতি হলো, দশকের পর দশক ধরে তিল তিল করে গড়ে তোলা অভিজ্ঞ নেতৃত্বের যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যুদ্ধের ময়দানে সেই ক্ষত ঢেকে রাখা অত্যন্ত কঠিন। আগামী দিনগুলোতে ইরান কীভাবে এই সামরিক ও মানসিক ধাক্কা সামলে মধ্যপ্রাচ্যের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক গণজাগরণ

সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬


অভিজ্ঞ কমান্ডারের শূন্যতা মধ্যপ্রাচ্যে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ইরান

প্রকাশের তারিখ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ সব সময়ই ঊর্ধ্বমুখী। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মাঝে অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক দেশ ইরান বর্তমানে এক গভীর এবং কৌশলগত সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একের পর এক শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ও অভিজ্ঞ সেনাপতিদের হারিয়ে এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে দেশটি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, শীর্ষস্থানীয় এই সামরিক কর্মকর্তাদের হারানোর শূন্যতা পূরণ করা ইরানের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইরানের সামরিক শক্তি, বিশেষ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এবং এর এলিট শাখা 'কুদস ফোর্স' মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তারের মূল চাবিকাঠি। কিন্তু গত কয়েক বছরে সিরিয়া, লেবানন এবং খোদ ইরানের মাটিতে একাধিক গুপ্তহত্যা ও লক্ষ্যবস্তু করে চালানো হামলায় (টার্গেটেড কিলিং) প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সামরিক কৌশলবিদ।

এই কমান্ডাররা শুধু রণাঙ্গনের সেনাপতিই ছিলেন না, বরং তারা ছিলেন মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর (যেমন- হিজবুল্লাহ, হামাস, হুথি ইত্যাদি) সাথে যোগাযোগের মূল সেতুবন্ধন। তাদের মৃত্যুতে যে প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের জাল ছিন্ন হয়েছে, তা রাতারাতি পুনর্গঠন করা প্রায় অসম্ভব।

একের পর এক শীর্ষ সামরিক কর্তার অবস্থান শনাক্ত হওয়া এবং নিখুঁত হামলার শিকার হওয়ার ঘটনা ইরানের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। আন্তর্জাতিক সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রগুলো ইরানের সামরিক কাঠামোর বেশ গভীরে অনুপ্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে। এই 'ক্ষত' নিয়ে লড়াই করা ইরানের জন্য এখন দ্বিমুখী সংকট— একদিকে বহির্বিশ্বে প্রভাব ধরে রাখা, অন্যদিকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নিশ্ছিদ্র করা।

শীর্ষ নেতৃত্ব হারানোর এই ধাক্কা সামলে উঠতে ইরান তাদের সামরিক ও কৌশলগত দিকনির্দেশনায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনছে বলে জানা যায়। নতুন প্রজন্মের কমান্ডারদের দ্রুত দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও গোপনীয়তা ও প্রযুক্তিগত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। এত বড় ক্ষতির পরও ইরান তাদের আঞ্চলিক নীতি থেকে সরে আসেনি, বরং নিজেদের শক্তি ও প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রমাণ করতে তারা মরিয়া।

তবে বাস্তব পরিস্থিতি হলো, দশকের পর দশক ধরে তিল তিল করে গড়ে তোলা অভিজ্ঞ নেতৃত্বের যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যুদ্ধের ময়দানে সেই ক্ষত ঢেকে রাখা অত্যন্ত কঠিন। আগামী দিনগুলোতে ইরান কীভাবে এই সামরিক ও মানসিক ধাক্কা সামলে মধ্যপ্রাচ্যের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।


দৈনিক গণজাগরণ

সম্পাদক ও প্রকাশক- তপন রায় , প্রধান নির্বাহী সম্পাদক : আরমান ইসলাম , বার্তা সম্পাদক : বিধান রায়
দৈনিক গণজাগরণ