দৈনিক গণজাগরণ

যেভাবে নিহত হলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি



যেভাবে নিহত হলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি

 ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক নজিরবিহীন যৌথ সামরিক হামলায় নিহত হয়েছেন। তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত তার অত্যন্ত সুরক্ষিত ও দুর্ভেদ্য বাসভবনে এই আকস্মিক ও সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়। রোববার (১ মার্চ) সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি এবং আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স ও তাসনিম নিউজ তার মৃত্যুর খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রার উত্তেজনা তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে তেহরানে আয়াতুল্লাহ খামেনির সুরক্ষিত বাসভবন ও কার্যালয় 'বেত রাহবারি'-কে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও অত্যাধুনিক ইন্টেলিজেন্স ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করে এই হামলা পরিচালনা করা হয়।

জানা গেছে, হামলার ঠিক আগ মুহূর্তে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা একটি সুরক্ষিত স্থানে তার শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করছিলেন। এই বৈঠকে সাবেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিব আলী শামখানি এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপোর উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়।

হামলার পর এয়ারবাস ও অন্যান্য স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবিতে দেখা যায়, খামেনির অত্যন্ত সুরক্ষিত সেই প্রাসাদটি পুরোপুরি ধসে পড়েছে এবং চারপাশ পুড়ে কালো হয়ে গেছে। এই ধ্বংসচিত্র প্রমাণ করে যে, দুর্ভেদ্য ভবনটি গুড়িয়ে দিতে সেখানে অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরক ব্যবহার করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।

এই ভয়াবহ হামলায় শুধু আয়াতুল্লাহ খামেনিই নন, তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ধ্বংসস্তূপের নিচে খামেনির মেয়ে, জামাতা, এক নাতি এবং পুত্রবধূও নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি ইরানের আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তাও এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।

হামলার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সামরিক অভিযানের কথা প্রকাশ করেন। ট্রাম্প তার বিবৃতিতে জানান, যৌথ বাহিনীর অত্যাধুনিক গোয়েন্দা নজরদারি এড়িয়ে খামেনি বা তার সহযোগীদের পক্ষে আত্মরক্ষা করা কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না।

১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করে আসা ৮৬ বছর বয়সী খামেনির এই মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং ৭ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এবং ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক গণজাগরণ

সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬


যেভাবে নিহত হলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি

প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬

featured Image

 ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক নজিরবিহীন যৌথ সামরিক হামলায় নিহত হয়েছেন। তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত তার অত্যন্ত সুরক্ষিত ও দুর্ভেদ্য বাসভবনে এই আকস্মিক ও সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়। রোববার (১ মার্চ) সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি এবং আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স ও তাসনিম নিউজ তার মৃত্যুর খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রার উত্তেজনা তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে তেহরানে আয়াতুল্লাহ খামেনির সুরক্ষিত বাসভবন ও কার্যালয় 'বেত রাহবারি'-কে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও অত্যাধুনিক ইন্টেলিজেন্স ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করে এই হামলা পরিচালনা করা হয়।

জানা গেছে, হামলার ঠিক আগ মুহূর্তে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা একটি সুরক্ষিত স্থানে তার শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করছিলেন। এই বৈঠকে সাবেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিব আলী শামখানি এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপোর উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়।

হামলার পর এয়ারবাস ও অন্যান্য স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবিতে দেখা যায়, খামেনির অত্যন্ত সুরক্ষিত সেই প্রাসাদটি পুরোপুরি ধসে পড়েছে এবং চারপাশ পুড়ে কালো হয়ে গেছে। এই ধ্বংসচিত্র প্রমাণ করে যে, দুর্ভেদ্য ভবনটি গুড়িয়ে দিতে সেখানে অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরক ব্যবহার করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।

এই ভয়াবহ হামলায় শুধু আয়াতুল্লাহ খামেনিই নন, তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ধ্বংসস্তূপের নিচে খামেনির মেয়ে, জামাতা, এক নাতি এবং পুত্রবধূও নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি ইরানের আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তাও এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।

হামলার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সামরিক অভিযানের কথা প্রকাশ করেন। ট্রাম্প তার বিবৃতিতে জানান, যৌথ বাহিনীর অত্যাধুনিক গোয়েন্দা নজরদারি এড়িয়ে খামেনি বা তার সহযোগীদের পক্ষে আত্মরক্ষা করা কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না।

১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করে আসা ৮৬ বছর বয়সী খামেনির এই মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং ৭ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এবং ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


দৈনিক গণজাগরণ

সম্পাদক ও প্রকাশক- তপন রায় , প্রধান নির্বাহী সম্পাদক : আরমান ইসলাম , বার্তা সম্পাদক : বিধান রায়
দৈনিক গণজাগরণ