বিচারিক দীর্ঘসূত্রতা ও মামলার বিপুল ব্যয়ভার লাঘবে দেশের বিচার ব্যবস্থায় এক অনন্য মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। আদালতের বাইরে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা অল্টারনেটিভ ডিসপিউট রেজোলিউশনের (এডিআর) মাধ্যমে দেশের এক লাখ ৮৩ হাজারেরও বেশি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। মূলত যে সকল বিচারপ্রার্থী আর্থিকভাবে অসচ্ছল এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য রাখেন না, তাদের জন্যই এই ব্যবস্থাটি আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।
জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার (লিগ্যাল এইড) অধীনে পরিচালিত এই কার্যক্রমের ফলে লাখো প্রান্তিক মানুষ দ্রুততম সময়ে ন্যায়বিচার পেয়েছেন। দীর্ঘমেয়াদী আইনি জটিলতা পরিহার করে উভয় পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে এই মামলাগুলো নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশের আদালতগুলোতে বর্তমানে লাখ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলার এই বিশাল জট কমানো এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বিনামূল্যে আইনি সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সরকার বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) ওপর জোর দিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় জেলা লিগ্যাল এইড অফিসগুলোর মাধ্যমে এই অভাবনীয় সাফল্য এসেছে।
এডিআর হলো আদালতের প্রচলিত দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করার একটি আইনি পদ্ধতি। এর মাধ্যমে উভয় পক্ষকে একসঙ্গে বসিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো হয়। এতে যেমন বিচারপ্রার্থীদের অর্থ ও সময়ের সাশ্রয় হয়, তেমনি পারস্পরিক সম্পর্কও নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়। বিশেষ করে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, পারিবারিক কলহ এবং ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলাগুলো এই পদ্ধতিতে দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ১ লাখ ৮৩ হাজারেরও বেশি মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার এই পরিসংখ্যান কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং এটি দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক। অর্থের অভাবে কোনো নাগরিক যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এই বিপুল সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তির ফলে একদিকে যেমন আদালতগুলোর ওপর থেকে চাপ অনেকাংশে কমেছে, অন্যদিকে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জীবনে শান্তি ফিরে এসেছে। আগামী দিনেও জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার মাধ্যমে এডিআর পদ্ধতিকে আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এই সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত হলে দেশের বিচার ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬
বিচারিক দীর্ঘসূত্রতা ও মামলার বিপুল ব্যয়ভার লাঘবে দেশের বিচার ব্যবস্থায় এক অনন্য মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। আদালতের বাইরে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা অল্টারনেটিভ ডিসপিউট রেজোলিউশনের (এডিআর) মাধ্যমে দেশের এক লাখ ৮৩ হাজারেরও বেশি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। মূলত যে সকল বিচারপ্রার্থী আর্থিকভাবে অসচ্ছল এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য রাখেন না, তাদের জন্যই এই ব্যবস্থাটি আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।
জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার (লিগ্যাল এইড) অধীনে পরিচালিত এই কার্যক্রমের ফলে লাখো প্রান্তিক মানুষ দ্রুততম সময়ে ন্যায়বিচার পেয়েছেন। দীর্ঘমেয়াদী আইনি জটিলতা পরিহার করে উভয় পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে এই মামলাগুলো নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশের আদালতগুলোতে বর্তমানে লাখ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলার এই বিশাল জট কমানো এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বিনামূল্যে আইনি সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সরকার বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) ওপর জোর দিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় জেলা লিগ্যাল এইড অফিসগুলোর মাধ্যমে এই অভাবনীয় সাফল্য এসেছে।
এডিআর হলো আদালতের প্রচলিত দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করার একটি আইনি পদ্ধতি। এর মাধ্যমে উভয় পক্ষকে একসঙ্গে বসিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো হয়। এতে যেমন বিচারপ্রার্থীদের অর্থ ও সময়ের সাশ্রয় হয়, তেমনি পারস্পরিক সম্পর্কও নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়। বিশেষ করে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, পারিবারিক কলহ এবং ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলাগুলো এই পদ্ধতিতে দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ১ লাখ ৮৩ হাজারেরও বেশি মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার এই পরিসংখ্যান কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং এটি দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক। অর্থের অভাবে কোনো নাগরিক যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এই বিপুল সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তির ফলে একদিকে যেমন আদালতগুলোর ওপর থেকে চাপ অনেকাংশে কমেছে, অন্যদিকে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জীবনে শান্তি ফিরে এসেছে। আগামী দিনেও জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার মাধ্যমে এডিআর পদ্ধতিকে আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এই সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত হলে দেশের বিচার ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন