দৈনিক গণজাগরণ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ নিহত



যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ নিহত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজ নাসিরজাদেহ নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) চালানো এই অতর্কিত হামলায় ইরানের সামরিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতা প্রাণ হারিয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা নিশ্চিত করেছে।

রবিবার (১ মার্চ ২০২৬) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘ইরনা’ (IRNA) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর সমন্বিত হামলায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ ছাড়াও দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আবদুল রহিম মুসাভি নিহত হয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা পরিষদের বৈঠক চলাকালীন এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর সূত্রে জানা যায়, এই হামলায় ইরানের সামরিক কমান্ড কাঠামোকে মূলত লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ ছাড়াও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর এবং সুপ্রিম ডিফেন্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আলী শামখানি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও নিহত হয়েছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক বড় ধরনের অস্থিতিশীলতার জন্ম দিয়েছে। সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর খবরে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইরাকে ইতোমধ্যে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

১৯৬৪ সালে জন্মগ্রহণকারী আজিজ নাসিরজাদেহ একজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইরানি বিমান বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিযুক্ত হন। ২০২৪ সালে তিনি ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও মিসাইল প্রোগ্রাম আধুনিকায়নে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।

এদিকে, এই নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি ছিল একটি পূর্বপরিকল্পিত সমন্বিত হামলা, যার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও কৌশলগত সক্ষমতা ধ্বংস করা। অন্যদিকে, ইরানের সরকার ও সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই আগ্রাসনের কঠোর ও দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের মৃত্যুতে ইরানের প্রতিরক্ষা কাঠামো বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। এই ঘটনার পর আঞ্চলিক সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে এবং তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে একটি বড় যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহল গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করছে।


আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক গণজাগরণ

সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ নিহত

প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজ নাসিরজাদেহ নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) চালানো এই অতর্কিত হামলায় ইরানের সামরিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতা প্রাণ হারিয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা নিশ্চিত করেছে।

রবিবার (১ মার্চ ২০২৬) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘ইরনা’ (IRNA) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর সমন্বিত হামলায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ ছাড়াও দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আবদুল রহিম মুসাভি নিহত হয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা পরিষদের বৈঠক চলাকালীন এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর সূত্রে জানা যায়, এই হামলায় ইরানের সামরিক কমান্ড কাঠামোকে মূলত লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ ছাড়াও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর এবং সুপ্রিম ডিফেন্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আলী শামখানি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও নিহত হয়েছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক বড় ধরনের অস্থিতিশীলতার জন্ম দিয়েছে। সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর খবরে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইরাকে ইতোমধ্যে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

১৯৬৪ সালে জন্মগ্রহণকারী আজিজ নাসিরজাদেহ একজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইরানি বিমান বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিযুক্ত হন। ২০২৪ সালে তিনি ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও মিসাইল প্রোগ্রাম আধুনিকায়নে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।

এদিকে, এই নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি ছিল একটি পূর্বপরিকল্পিত সমন্বিত হামলা, যার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও কৌশলগত সক্ষমতা ধ্বংস করা। অন্যদিকে, ইরানের সরকার ও সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই আগ্রাসনের কঠোর ও দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের মৃত্যুতে ইরানের প্রতিরক্ষা কাঠামো বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। এই ঘটনার পর আঞ্চলিক সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে এবং তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে একটি বড় যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহল গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করছে।



দৈনিক গণজাগরণ

সম্পাদক ও প্রকাশক- তপন রায় , প্রধান নির্বাহী সম্পাদক : আরমান ইসলাম , বার্তা সম্পাদক : বিধান রায়
দৈনিক গণজাগরণ