মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে চলমান সামরিক হামলা অবিলম্বে বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রোববার (১ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে দলটির শীর্ষ নেতারা এই কড়া বার্তা দেন।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু এবং দেশটিতে বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, "ইরানের জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে চালানো এই হামলা সম্পূর্ণ অন্যায় ও মানবতাবিরোধী। অবিলম্বে এই যুদ্ধ ও আগ্রাসন বন্ধ করা না হলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বৃহত্তর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে।"
তিনি এই হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ নিহত সকলের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। বৈশ্বিক শান্তিরক্ষায় জাতিসংঘ এবং ওআইসির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, "জাতিসংঘ গঠন করা হয়েছিল বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু তারা আজ কয়েকটি নির্দিষ্ট দেশের তাঁবেদারি করছে। বিশ্বের এই ক্রান্তিলগ্নে তারা যদি কার্যকর ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে বিশ্ববাসী একদিন তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।"
এ টি এম আজহারুল ইসলাম আরও বলেন, এই যুদ্ধের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সারা বিশ্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে। তাই বিশ্বমানবতার স্বার্থে দ্রুত এই যুদ্ধ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। ইসরায়েলকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, এর আগেও সাধারণ মানুষ তাদের পণ্য বর্জন করেছিল। এবারও ইসরায়েলি পণ্য বয়কট করলে তাদের অর্থনীতি ভেঙে পড়বে। তিনি মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, মুসলিম বিশ্বের ওপর এই ধরনের আগ্রাসন রুখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। আগামী ১২ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে খামেনি হত্যার ঘটনায় রাষ্ট্রীয়ভাবে নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণের জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
এ ছাড়া সমাবেশে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে স্থানীয় জামায়াত নেতা হাফিজুর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। নেতারা অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান।
বিক্ষোভ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান আকন, মো. সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুলসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতারা।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম এলাকা থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় যুদ্ধবিরোধী এবং ফিলিস্তিন ও ইরানের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তোলেন দলের হাজারো নেতাকর্মী।

সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে চলমান সামরিক হামলা অবিলম্বে বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রোববার (১ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে দলটির শীর্ষ নেতারা এই কড়া বার্তা দেন।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু এবং দেশটিতে বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, "ইরানের জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে চালানো এই হামলা সম্পূর্ণ অন্যায় ও মানবতাবিরোধী। অবিলম্বে এই যুদ্ধ ও আগ্রাসন বন্ধ করা না হলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বৃহত্তর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে।"
তিনি এই হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ নিহত সকলের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। বৈশ্বিক শান্তিরক্ষায় জাতিসংঘ এবং ওআইসির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, "জাতিসংঘ গঠন করা হয়েছিল বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু তারা আজ কয়েকটি নির্দিষ্ট দেশের তাঁবেদারি করছে। বিশ্বের এই ক্রান্তিলগ্নে তারা যদি কার্যকর ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে বিশ্ববাসী একদিন তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।"
এ টি এম আজহারুল ইসলাম আরও বলেন, এই যুদ্ধের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সারা বিশ্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে। তাই বিশ্বমানবতার স্বার্থে দ্রুত এই যুদ্ধ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। ইসরায়েলকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, এর আগেও সাধারণ মানুষ তাদের পণ্য বর্জন করেছিল। এবারও ইসরায়েলি পণ্য বয়কট করলে তাদের অর্থনীতি ভেঙে পড়বে। তিনি মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, মুসলিম বিশ্বের ওপর এই ধরনের আগ্রাসন রুখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। আগামী ১২ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে খামেনি হত্যার ঘটনায় রাষ্ট্রীয়ভাবে নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণের জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
এ ছাড়া সমাবেশে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে স্থানীয় জামায়াত নেতা হাফিজুর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। নেতারা অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান।
বিক্ষোভ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান আকন, মো. সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুলসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতারা।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম এলাকা থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় যুদ্ধবিরোধী এবং ফিলিস্তিন ও ইরানের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তোলেন দলের হাজারো নেতাকর্মী।

আপনার মতামত লিখুন