দৈনিক গণজাগরণ

ছাত্র-জনতাকে পুনরায় রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না: কড়া হুঁশিয়ারি নাহিদের



ছাত্র-জনতাকে পুনরায় রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না: কড়া হুঁশিয়ারি নাহিদের

দেশের চলমান পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ নাহিদ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, পরিস্থিতি এমন দিকে ঠেলে দেবেন না, যার ফলে সাধারণ মানুষ ও ছাত্রসমাজ আবারও ‘হাইকোর্ট না রাজপথ’ স্লোগান দিয়ে রাস্তায় নেমে আসতে বাধ্য হয়।

সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। বক্তব্যের সময় তাকে অত্যন্ত দৃঢ় এবং আত্মবিশ্বাসী দেখা যায়। তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, সাধারণ মানুষের অধিকার এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্নে ছাত্র-জনতা এখনও আপসহীন অবস্থানে রয়েছে।

নাহিদ তার বক্তব্যে ইঙ্গিত দেন যে, আইনি প্রক্রিয়া বা আদালতের দোহাই দিয়ে যদি এমন কোনো সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় যা জনস্বার্থ বিরোধী বা গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী, তবে তা সহজে মেনে নেওয়া হবে না। তিনি মনে করিয়ে দেন, প্রয়োজনে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার আদায় করতে জানে।

তার উচ্চারিত ‘হাইকোর্ট না রাজপথ’ স্লোগানটি মূলত একটি শক্তিশালী প্রতীকী বার্তা। এর অন্তর্নিহিত অর্থ হলো— মানুষ যদি আইনি কাঠামোর ভেতরে কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার না পায় বা প্রতারিত বোধ করে, তবে তারা আদালতের দিকে তাকিয়ে না থেকে সরাসরি রাজপথের গণ-আন্দোলনের ওপরই আস্থা রাখবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ তার এই বক্তব্যের সময় একাত্মতা প্রকাশ করেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, নাহিদের এই বক্তব্য বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং নীতিনির্ধারকদের প্রতি একটি পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছে যে, জনমতের বিরুদ্ধে গিয়ে বা মানুষের সেন্টিমেন্ট না বুঝে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার চেষ্টা হলে তা হিতে বিপরীত হতে পারে।

তার এই মন্তব্য এরই মধ্যে দেশের সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে এমন স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষের আইনি ব্যবস্থার ওপর পূর্ণ আস্থা বজায় থাকে। কোনোভাবেই যেন পুনরায় গণ-অসন্তোষ বা রাজপথের আন্দোলনের পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সকলের সজাগ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। অধিকার আদায়ের প্রশ্নে রাজপথ যে সবসময়ই একটি উন্মুক্ত বিকল্প, নাহিদের এই সময়োপযোগী হুঁশিয়ারি যেন সেটিই পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিল।


আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক গণজাগরণ

বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬


ছাত্র-জনতাকে পুনরায় রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না: কড়া হুঁশিয়ারি নাহিদের

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মার্চ ২০২৬

featured Image

দেশের চলমান পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ নাহিদ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, পরিস্থিতি এমন দিকে ঠেলে দেবেন না, যার ফলে সাধারণ মানুষ ও ছাত্রসমাজ আবারও ‘হাইকোর্ট না রাজপথ’ স্লোগান দিয়ে রাস্তায় নেমে আসতে বাধ্য হয়।

সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। বক্তব্যের সময় তাকে অত্যন্ত দৃঢ় এবং আত্মবিশ্বাসী দেখা যায়। তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, সাধারণ মানুষের অধিকার এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্নে ছাত্র-জনতা এখনও আপসহীন অবস্থানে রয়েছে।

নাহিদ তার বক্তব্যে ইঙ্গিত দেন যে, আইনি প্রক্রিয়া বা আদালতের দোহাই দিয়ে যদি এমন কোনো সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় যা জনস্বার্থ বিরোধী বা গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী, তবে তা সহজে মেনে নেওয়া হবে না। তিনি মনে করিয়ে দেন, প্রয়োজনে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার আদায় করতে জানে।

তার উচ্চারিত ‘হাইকোর্ট না রাজপথ’ স্লোগানটি মূলত একটি শক্তিশালী প্রতীকী বার্তা। এর অন্তর্নিহিত অর্থ হলো— মানুষ যদি আইনি কাঠামোর ভেতরে কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার না পায় বা প্রতারিত বোধ করে, তবে তারা আদালতের দিকে তাকিয়ে না থেকে সরাসরি রাজপথের গণ-আন্দোলনের ওপরই আস্থা রাখবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ তার এই বক্তব্যের সময় একাত্মতা প্রকাশ করেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, নাহিদের এই বক্তব্য বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং নীতিনির্ধারকদের প্রতি একটি পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছে যে, জনমতের বিরুদ্ধে গিয়ে বা মানুষের সেন্টিমেন্ট না বুঝে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার চেষ্টা হলে তা হিতে বিপরীত হতে পারে।

তার এই মন্তব্য এরই মধ্যে দেশের সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে এমন স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষের আইনি ব্যবস্থার ওপর পূর্ণ আস্থা বজায় থাকে। কোনোভাবেই যেন পুনরায় গণ-অসন্তোষ বা রাজপথের আন্দোলনের পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সকলের সজাগ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। অধিকার আদায়ের প্রশ্নে রাজপথ যে সবসময়ই একটি উন্মুক্ত বিকল্প, নাহিদের এই সময়োপযোগী হুঁশিয়ারি যেন সেটিই পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিল।



দৈনিক গণজাগরণ

সম্পাদক ও প্রকাশক- তপন রায় , প্রধান নির্বাহী সম্পাদক : আরমান ইসলাম , বার্তা সম্পাদক : বিধান রায়
দৈনিক গণজাগরণ