প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে জনপ্রতিনিধি বির্ধমী হতে পারবে নাা
তপন কুমার ||
বাংলাদেশ একটি বৈচিত্র্যময় দেশ, যেখানে দীর্ঘকাল ধরে সকল ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বসবাস করে আসছে। সম্প্রতি জনমনে একটি প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে যে, দেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ বা যৌক্তিকতা কতটুকু। এই বিষয়টি নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া কৌতূহল মেটাতে আমরা বিষয়টি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছি।বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, এদেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রের মূলনীতি ও অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি তার ধর্ম, বর্ণ বা লিঙ্গের কারণে বৈষম্যের শিকার হবেন না। একজন যোগ্য ও বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে যে কেউ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার এবং জয়ী হলে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার পূর্ণ অধিকার রাখেন। সংবিধানে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, রাষ্ট্র কোনো ধর্মের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করবে না এবং সকল ধর্মের মানুষ তাদের নাগরিক অধিকার ভোগ করবে।সংসদ সদস্য হওয়ার মূল ভিত্তি হলো জনগণের আস্থা এবং দেশের প্রতি আনুগত্য। একজন প্রতিনিধি যখন সংসদে বসেন, তিনি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের জন্য নয়, বরং তার নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করেন। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশ গঠনের প্রতিটি ধাপে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ একত্রে লড়াই করেছেন। তাই জনপ্রতিনিধি হিসেবে কেবল ধর্মীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া জাতীয় ঐক্যের পরিপন্থী হতে পারে।একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ধর্ম যার যার, কিন্তু রাষ্ট্র সবার। আমাদের সংসদীয় কাঠামোতে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের অংশগ্রহণ বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করে। এটি প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ একটি সহনশীল ও গণতান্ত্রিক দেশ। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়া একজন প্রতিনিধি যখন সংসদে কথা বলেন, তখন তিনি মূলত ১৬ কোটি মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন। সেখানে ধর্মীয় বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই।পরিশেষে বলা যায়, সংসদীয় প্রতিনিধি নির্বাচনে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে দেশপ্রেম, সততা এবং জনগণের সেবা করার মানসিকতাই প্রধান হওয়া উচিত। বাংলাদেশের আইন ও সংবিধান অনুযায়ী, কোনো নাগরিককেই তার ধর্মের কারণে জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা যায় না। পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনাই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার মূল শক্তি।আপনি কি এই প্রতিবেদনের সাথে কোনো প্রাসঙ্গিক ছবি বা গ্রাফিক্স তৈরি করতে চান যা অসাম্প্রদায়িকতাকে তুলে ধরবে?
সম্পাদক ও প্রকাশক - তপন রায় ,
প্রধান নির্বাহী সম্পাদক : আরমান ইসলাম ,
বার্তা সম্পাদক : বিধান রায়
দৈনিক গণজাগরণ