প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দুধের সন্তান নিয়ে কি রাজপথে নামতে হবে? — বিচারের দাবিতে যমুনার সামনে শহিদ হাদির স্ত্রীর কান্নাজড়িত প্রশ্না
দৈনিক গণজাগরণ ||
বিচারের দাবিতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম শহিদ, হাদির পরিবার। গভীর রাতেও বিচার না পাওয়ার হাহাকার নিয়ে রাজপথে বসে থাকতে দেখা গেছে শহিদ হাদির স্ত্রী ও স্বজনদের। এ সময় হাদির স্ত্রীর করা একটি প্রশ্ন উপস্থিত সকলের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে।প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনের রাস্তায় প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নিয়েছেন শহিদ হাদির পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— "শহিদ হাদি হত্যার বিচার চাই"। স্বজন হারানোর বেদনায় এবং দীর্ঘ সময়েও সঠিক বিচার না পাওয়ার ক্ষোভে তাঁরা এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।ঘটনাস্থলে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে শহিদ হাদির স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "আমার স্বামীর হত্যার বিচার কি আমি পাব না? আমার কোলের এই দুধের বাচ্চাকেও কি এখন বিচারের জন্য রাজপথে নামাতে হবে?" তাঁর এই প্রশ্নে উপস্থিত পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহিদ হন হাদি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা বা পরিবারের দাবি-দাওয়া পূরণে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে বলে অভিযোগ স্বজনদের। পরিবারের মূল দাবি হলো, অবিলম্বে শহিদ হাদির হত্যাকারীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা রাজপথ ছাড়বেন না বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন।শহিদ পরিবারের সদস্যদের এভাবে রাতের বেলা রাস্তায় বসে থাকার দৃশ্য সাধারণ মানুষের মনেও দাগ কেটেছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। শহিদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতায় তাঁদের পরিবার কেন বিচারের জন্য রাস্তায় কাঁদবে— এমন প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।
সম্পাদক ও প্রকাশক - তপন রায় ,
প্রধান নির্বাহী সম্পাদক : আরমান ইসলাম ,
বার্তা সম্পাদক : বিধান রায়
দৈনিক গণজাগরণ