প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মায়ের মৃত্যু গোপন করে দীর্ঘদিন ধরে পেনশন গ্রহণ: জার্মানিতে চাঞ্চল্যকর ঘটনাা
বিধান চন্দ্র রায় ||
জার্মানির বাভারিয়া প্রদেশে এক অভাবনীয় ও মর্মান্তিক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। নিজের মায়ের মৃত্যুর খবর গোপন রেখে এবং তাঁর মরদেহ বছরের পর বছর বাড়িতে লুকিয়ে রেখে নিয়মিত পেনশন তোলার অভিযোগে এক কন্যাকে তদন্তের আওতায় এনেছে স্থানীয় পুলিশ। সম্প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দৈনিক গণজাগরন-এর পাঠকদের জন্য ঘটনার একটি সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো: জার্মানির বাভারিয়া রাজ্যের ছোট্ট শহর রাহমানসফেলডেনে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ৮২ বছর বয়সী কন্যা তাঁর মায়ের সাথে একই বাড়িতে বসবাস করতেন। জানা যায়, তাঁর মায়ের জন্ম হয়েছিল ১৯২২ সালে। ঘটনার সূত্রপাত হলে পুলিশ ওই বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তল্লাশির এক পর্যায়ে বাড়িটি থেকে ১০০ বছরের বেশি বয়সী ওই বৃদ্ধা মায়ের মমি হয়ে যাওয়া মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, মাসে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২ লাখ ১৭ হাজার ৬২০ টাকার সমান) সরকারি পেনশন নিয়মিত তুলে নেওয়ার লোভেই ওই কন্যা দীর্ঘদিন ধরে মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি রাষ্ট্র ও প্রতিবেশীদের কাছে গোপন রেখেছিলেন।স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, এলাকার মেয়র ভার্নার ট্রয়িবার গত আট বছর ধরে নিয়ম করে প্রতি বছর জন্মদিনে ওই শতবর্ষী বৃদ্ধাকে শুভেচ্ছা জানাতে তাঁদের বাড়িতে যেতেন। কিন্তু প্রতিবারই বাড়ির দরজা বন্ধ থাকত, অথবা অভিযুক্ত কন্যা মেয়রের কাছে নানা ধরনের মনগড়া অজুহাত দেখিয়ে তাঁকে ফিরিয়ে দিতেন।দীর্ঘদিনের এই লুকোচুরির পর, অবশেষে ২০২৫ সালের শেষের দিকে ওই কন্যা হঠাৎ দাবি করেন যে তাঁর মা দুই বছর আগে চেক প্রজাতন্ত্রে মারা গেছেন। তাঁর এই কথায় কর্তৃপক্ষের মনে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়। এর জের ধরেই পুলিশের মাধ্যমে বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয় এবং ভয়ানক এই প্রকৃত সত্যটি সবার সামনে আসে।বর্তমানে এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছে জার্মানির স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। একজন বয়স্ক নারী কীভাবে এত দীর্ঘ সময় ধরে এমন একটি ঘটনা সবার আড়ালে রাখতে সক্ষম হলেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক - তপন রায় ,
প্রধান নির্বাহী সম্পাদক : আরমান ইসলাম ,
বার্তা সম্পাদক : বিধান রায়
দৈনিক গণজাগরণ