প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
অর্থনৈতিক টানাপোড়েন: বিদায়বেলায় ড. ইউনূসের শাসনামলে ৩০ লাখ নতুন দরিদ্র রেখে বিদেশে পারিা
দৈনিক গণজাগরণ ||
শান্তিতে নোবেলজয়ী, ক্ষুদ্রঋণের প্রবক্তা এবং বিশ্বব্যাপী যিনি ‘দারিদ্র্য বিমোচনের জাদুকর’ হিসেবে পরিচিত, সেই ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর বর্তমান প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিদায় নিচ্ছেন। তবে তাঁর এই বিদায়লগ্নে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ও জনজীবন নিয়ে একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান সামনে এসেছে। বিভিন্ন তথ্য ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দাবি করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে নতুন করে আরও প্রায় ৩০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে।যিনি তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে লাখো মানুষকে দারিদ্র্যের কশাঘাত থেকে মুক্তির পথ দেখিয়েছেন, তাঁরই দায়িত্বপালনের শেষ পর্যায়ে এসে দেশে নতুন করে বিপুলসংখ্যক মানুষের দরিদ্র হয়ে পড়ার এই খবর জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশে নতুন করে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে বেশ কয়েকটি দৃশ্যমান কারণ রয়েছে। প্রথমত, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি। বিগত বেশ কিছু মাস ধরে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। আয়ের তুলনায় ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সঞ্চয় ভেঙে খেতে বাধ্য হয়েছে এবং অনেকেই ধীরে ধীরে দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান নিয়েছে।দ্বিতীয়ত, কর্মসংস্থানের অভাব এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা। দেশের রাজনৈতিক ও কাঠামোগত পালাবদলের পর অর্থনীতিতে যে গতিশীলতা আসার কথা ছিল, তা পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। অনেক কলকারখানা ও উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে না পারায় বহু মানুষ কাজ হারিয়েছেন।ড. মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ মডেলে যে সাফল্য পেয়েছিলেন, তা ছিল মূলত দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রক্রিয়া। কিন্তু একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির দায়িত্ব নেওয়া এবং তা স্থিতিশীল রাখা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি এবং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার ফলশ্রুতিতেই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ড. ইউনূস অত্যন্ত স্বল্প সময়ে এই বিশাল অর্থনৈতিক ফাটল মেরামতের চেষ্টা করলেও কাঠামোগত সংস্কারের অভাবে তা পুরোপুরি সফল হয়নি।ড. ইউনূসের বিদায়ের মধ্য দিয়ে দেশের নেতৃত্ব নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। তবে নতুন যারা এই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এই নতুন করে তৈরি হওয়া ৩০ লাখ দরিদ্র মানুষের পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। দেশের অর্থনীতিকে আবারও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে হলে জরুরি ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বাজার ব্যবস্থার সিন্ডিকেট ভাঙা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পালাবদলের এই সময়ে দেশের নীতিনির্ধারকেরা দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকরী ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন, যাতে দেশের কোনো নাগরিককে আর অনাহারে বা অর্ধাহারে দিন কাটাতে না হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক - তপন রায় ,
প্রধান নির্বাহী সম্পাদক : আরমান ইসলাম ,
বার্তা সম্পাদক : বিধান রায়
দৈনিক গণজাগরণ