প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মিন্টো রোডের ঐতিহাসিক বাসভবন পেলেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানা
দৈনিক গণজাগরণ ||
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের জন্য সরকারি বাসভবন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর মিন্টো রোডে অবস্থিত ২৯ নম্বর ঐতিহাসিক বাড়িটি তাঁর জন্য বরাদ্দ দিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে খালি পড়ে থাকা এই বাসভবনটি এখন নতুন করে মেরামতের মাধ্যমে বসবাসের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে।ব্রিটিশ আমলে প্রায় আড়াই একর জায়গার ওপর নির্মিত এই দোতলা ভবনটি ‘লাল বাড়ি’ নামে সমধিক পরিচিত। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বাড়িটির একটি বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে: ১৯৯১ সাল: পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এই বাড়িতে উঠেছিলেন। * ১৯৯৬-২০০১ সাল: এই সময়ে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এই বাসভবনে থেকে নিয়মিত অফিস করেছেন। সে সময় আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াতসহ চারদলীয় জোটের আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই ২৯ নম্বর মিন্টো রোডের বাড়িটি। এখানেই জোটের শীর্ষ নেতারা অসংখ্যবার বৈঠক করেছেন। ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়া বাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার পর দীর্ঘ ২৫ বছরে এখানে আর কোনো বিরোধীদলীয় নেতা বসবাস করেননি।দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় বাসভবনটি অনেকটাই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এখন বাড়িটিতে জোরেশোরে মেরামত ও সংস্কার কাজ চলছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের তথ্যমতে, ইতোমধ্যে বাড়িটির প্রায় নব্বই ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে রাস্তার কিছু অংশ এবং রঙের ফিনিশিংয়ের কাজ চলছে। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে যিনি থাকবেন, তার চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাসভবনে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সরবরাহ করা হবে। পুরোপুরি বাসযোগ্য করতে আরও এক থেকে দেড় মাস সময় লাগতে পারে।বাসভবন বরাদ্দ দেওয়া হলেও ডা. শফিকুর রহমান কবে নাগাদ এই বাড়িতে উঠবেন, সে বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, সংসদ সচিবালয় ও সরকারের নিয়ম অনুসারেই বিরোধীদলীয় নেতার জন্য এই বাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার পর দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনার মাধ্যমে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক - তপন রায় ,
প্রধান নির্বাহী সম্পাদক : আরমান ইসলাম ,
বার্তা সম্পাদক : বিধান রায়
দৈনিক গণজাগরণ