প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬
সীমান্তে আর কোনো বাংলাদেশির প্রাণহানি নয়: ভারতকে বার্তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরা
দৈনিক গণজাগরণ ||
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে আর কোনো বাংলাদেশিকে যেন হত্যা করা না হয়, সে বিষয়ে ভারতকে অত্যন্ত স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সীমান্তে প্রাণহানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে এবং সাধারণ নাগরিকদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রতিনিধিদের মাঝে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সীমান্ত হত্যা বন্ধের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তুলে ধরে বাংলাদেশ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভারতের প্রতিনিধিদের সাথে অনুষ্ঠিত আলোচনায় জানানো হয়, সীমান্তে যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশিদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, সীমান্তে কোনো অবস্থাতেই প্রাণঘাতী মারণাস্ত্র ব্যবহার করা যাবে না।দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে সাধারণ বাংলাদেশিদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে আসছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো নিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। দেশের নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীরাও বরাবরই এসব হত্যাকাণ্ডের স্থায়ী সমাধান চেয়ে আসছেন। ঠিক এমন এক প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই কঠোর অবস্থান দেশের মানুষের জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও স্বস্তিদায়ক খবর।সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, সীমান্ত এলাকায় কেউ যদি ভুলবশত প্রবেশ করে বা চোরাচালানসহ কোনো বেআইনি কাজের সাথে জড়িত থাকে, তবে তাকে আটক করে প্রচলিত আইনের আওতায় বিচার করতে হবে। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কোনোভাবেই গুলি করে হত্যা করা গ্রহণযোগ্য নয়। এ সমস্যার সমাধানে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বৃদ্ধি এবং 'নন-লেথাল' বা প্রাণঘাতী নয়—এমন অস্ত্র ব্যবহারের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, একটি শান্তিপূর্ণ ও সুরক্ষিত সীমান্ত দুই দেশের স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তাই সীমান্ত হত্যা চিরতরে বন্ধ করতে ভারতের আন্তরিক সদিচ্ছা ও মাঠপর্যায়ে তার কার্যকর বাস্তবায়ন প্রয়োজন। বাংলাদেশ সরকার তার যেকোনো নাগরিকের জীবন রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সকল ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক - তপন রায় ,
প্রধান নির্বাহী সম্পাদক : আরমান ইসলাম ,
বার্তা সম্পাদক : বিধান রায়
দৈনিক গণজাগরণ