প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মার্চ ২০২৬
হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে রাজনৈতিক স্লোগান: দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনাা
দৈনিক গণজাগরণ ||
সিলেটের পবিত্র পুণ্যভূমি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি মাজার এলাকায় উপস্থিত হয়ে স্লোগান দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ বেশ কয়েকজন নেতা। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ একটি স্থানে এমন আচরণের কারণে সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, গত বুধবার (৪ মার্চ) রাতে একটি বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে অংশ নিতে সিলেটে অবস্থান করছিলেন তারা। ইফতার শেষে রাতে তারাবির নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে তারা শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে যান। সেখানে তাদের উপস্থিতির খবর পেয়ে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী জড়ো হন। একপর্যায়ে মাজারের নারী ইবাদতখানার ছাদে উঠে সারজিস আলমসহ অন্যান্য নেতারা বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিতে শুরু করেন। উপস্থিত নেতাকর্মীরাও তাদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে 'দিল্লি না সিলেট, সিলেট সিলেট' এবং 'আজাদি না গোলামি, আজাদি আজাদি' ইত্যাদি স্লোগান দেন। এতে পবিত্র মাজার এলাকায় এক ধরনের জটলা ও অস্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর সুশীল সমাজ ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, মাজার একটি আধ্যাত্মিক ও ইবাদতের জায়গা, এটি কোনোভাবেই রাজনৈতিক শোডাউন বা স্লোগান দেওয়ার স্থান হতে পারে না। যুগ যুগ ধরে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ সিলেটে এসে মাজার জিয়ারত করে থাকেন, কিন্তু মাজারের পবিত্রতা ও শিষ্টাচার বজায় রেখেই তারা সব কার্যক্রম পরিচালনা করেন। স্থানীয়রা জানান, এর আগে কখনও মাজার প্রাঙ্গণে এমন প্রকাশ্য রাজনৈতিক স্লোগান বা মিছিলের নজির নেই।সিলেটের বিশিষ্টজনেরা মন্তব্য করেছেন, দরগাহ মসজিদের পবিত্র প্রাঙ্গণে স্লোগান দিয়ে পরিবেশ নষ্ট করা কোনো সুস্থ রাজনীতির চর্চা বা শিষ্টাচার হতে পারে না। পবিত্র এই স্থানের আদব ও সম্মান বজায় রাখা সবারই নৈতিক দায়িত্ব। অনেকেই এই ঘটনাকে সিলেটের শত বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক পরিবেশের পরিপন্থি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নেতাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে সাধারণ নাগরিকদের দাবি, যেকোনো পবিত্র ও ধর্মীয় স্থানের ভাবগাম্ভীর্য রক্ষায় সব রাজনৈতিক দল ও নেতাদের ভবিষ্যতে আরও বেশি সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।
সম্পাদক ও প্রকাশক - তপন রায় ,
প্রধান নির্বাহী সম্পাদক : আরমান ইসলাম ,
বার্তা সম্পাদক : বিধান রায়
দৈনিক গণজাগরণ