প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
দোষ স্বীকারের পরও শাস্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা: দ্রুত বিচার নিশ্চিতের জোরালো দাবিা
দৈনিক গণজাগরণ ||
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য ও অমানবিক অপরাধের ঘটনা জনমনে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে যখন কোনো অপরাধী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ধরা পড়ার পর নিজের দোষ অকপটে স্বীকার করে নেয়, তখনও তার আইনি শাস্তি নিশ্চিত করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এই আইনি দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে এবার সচেতন মহলে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে— অপরাধী যখন নিজেই নিজের অপরাধ স্বীকার করছে, তখন তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে এত দেরি হবে কেন?সম্প্রতি এমনই একটি হৃদয়বিদারক ঘটনার পর দেশজুড়ে দ্রুত বিচারের দাবিটি আবারও জোরালোভাবে সামনে এসেছে। এক ফুটফুটে নিপরাধ শিশুর ওপর সংঘটিত পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের কৃতকর্মের কথা স্বীকারও করেছে। কিন্তু এরপরও প্রচলিত বিচারিক প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে ভুক্তভোগীর পরিবারকে ন্যায়বিচারের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে, যা সচেতন সমাজের কাছে কোনোভাবেই কাম্য নয়।বিশিষ্টজন ও আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশে বিদ্যমান বিচার ব্যবস্থায় নানা আইনি ধাপ ও সাক্ষ্য-প্রমাণের প্রক্রিয়ার কারণে মামলা নিষ্পত্তিতে সময় লাগাটা স্বাভাবিক। তবে নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর মামলাগুলোতে, বিশেষ করে যেখানে অপরাধীর সুস্পষ্ট স্বীকারোক্তি রয়েছে, সেখানে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচারকার্য দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করা উচিত। অপরাধী নিজের মুখে দোষ স্বীকার করার পরও যদি বিচারের নামে কালক্ষেপণ করা হয়, তবে তা ভুক্তভোগী পরিবারকে আরও বেশি মানসিক যন্ত্রণার দিকে ঠেলে দেয়।দেশের সচেতন নাগরিক ও মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, দোষ স্বীকার করার পরও শাস্তিতে বিলম্ব হলে সমাজে অপরাধীদের মনে ভীতি তৈরি হয় না; বরং অপরাধীরা আইনের ফাঁকফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ খোঁজে। তাদের মতে, এ ধরনের সুস্পষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনি জটিলতা এড়িয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে সমাজে এ ধরনের জঘন্য অপরাধের প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে।একটি সভ্য সমাজে অপরাধীর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগীকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। অপরাধীর স্বীকারোক্তির পর আর কোনো অজুহাতেই শাস্তিতে বিলম্ব মেনে নেওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও দ্রুত বিচার আইনের মাধ্যমে এ ধরনের স্পর্শকাতর মামলাগুলোর অবিলম্বে নিষ্পত্তি করা। এতে ভুক্তভোগীরা যেমন দ্রুত ন্যায়বিচার পাবেন, তেমনি সমাজে অপরাধীদের প্রতি একটি কঠোর ও সুস্পষ্ট বার্তা পৌঁছাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক - তপন রায় ,
প্রধান নির্বাহী সম্পাদক : আরমান ইসলাম ,
বার্তা সম্পাদক : বিধান রায়
দৈনিক গণজাগরণ