প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
শিক্ষকের অপমানে শিক্ষার্থীর আত্মহনন: বিচারের দাবিতে উত্তাল ব্রাইট স্কুল প্রাঙ্গণা
দৈনিক গণজাগরণ ||
রাজধানীর দনিয়ায় অবস্থিত ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজে এক মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যানের অপমানে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার অভিযোগ ওঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের বিচারের দাবিতে তারা ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র ও সহপাঠীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত শিক্ষার্থীর নাম সাবিকুন নাহার। সে ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী ছিল। অভিযোগ উঠেছে, গত বুধবার (২০ মে) পরীক্ষার হলে কোনো এক তুচ্ছ কারণে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটন ওই ছাত্রীকে অফিস কক্ষে ডেকে নেন।সাবিকুনকে ও তার অভিভাবককে ডেকে এনে সবার সামনে মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত করা হয় এবং অকথ্য ভাষায় অপমান করা হয়। এমনকি তাকে শারীরিকভাবেও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ রয়েছে।" নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ।এই তীব্র অপমান ও মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে বাসায় ফিরে ওইদিন বিকালেই সাবিকুন নিজ কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো স্কুল জুড়ে শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে আসে।বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল থেকেই ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা স্কুল প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকে। তারা স্কুলের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং ক্লাস বর্জন কর্মসূচির ডাক দেয়। সহপাঠী সাবিকুন নাহারের আত্মহত্যার প্ররোচনার জন্য দায়ী অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ওপর যেকোনো ধরনের মানসিক চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও গালিগালাজ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ভয়মুক্ত ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।শিক্ষার্থীদের হাতে "আমার বোন মরল কেন?" "হত্যার বিচার চাই, লিটনের বিচার চাই" ইত্যাদি স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। তাদের কান্না, ক্ষোভ ও গগনবিদারী স্লোগানে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীর নাম সাবিকুন নাহার ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দনিয়া, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা। প্রতিষ্ঠান প্রধানের দ্বারা মানসিক নির্যাতন ও অপমান, শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন, সড়ক অবরোধ ও বিচার চেয়ে বিক্ষোভ খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কদমতলী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহত ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হলে সে অনুযায়ী দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।অন্যদিকে, স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটনের কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও অন্যান্য শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যা শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বিতীয় বাড়ি হওয়ার কথা, সেখানে এমন মর্মান্তিক ঘটনা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত।
সম্পাদক ও প্রকাশক - তপন রায় ,
প্রধান নির্বাহী সম্পাদক : আরমান ইসলাম ,
বার্তা সম্পাদক : বিধান রায়
দৈনিক গণজাগরণ