মাদরাসাছাত্র শিহাবের বিরুদ্ধে আরও চার শিশুকে যৌন নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধের অভিযোগে শিহাব নামের এক মাদরাসাছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলাকালে আরও চার শিশুকে যৌন নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।জানা যায়, অভিযুক্ত শিহাব একটি মাদরাসার শিক্ষার্থী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো নিরাপদ স্থানে কোমলমতি শিশুদের সঙ্গে এমন অমানবিক ও অনৈতিক আচরণের খবর প্রকাশ পাওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে একই ধরনের একটি অভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে আটক করে। আটকের পর তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এবং তদন্তের পরিধি বাড়ানো হলে নতুন করে আরও চারজন শিশু তার নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ ওঠে।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক তদন্ত ও ভুক্তভোগী শিশুদের পরিবারের দেওয়া তথ্যমতে, অভিযুক্ত শিহাব বিভিন্ন সময় প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে শিশুদের ওপর এমন অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। ভয় ও লোকলজ্জার কারণে কোমলমতি শিশুরা প্রথমে বিষয়টি কাউকে জানাতে সাহস পায়নি। তবে সম্প্রতি একটি ঘটনার পর বিষয়টি জানাজানি হলে অন্য ভুক্তভোগী শিশুদের পরিবারও মুখ খুলতে শুরু করে এবং প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়।এ বিষয়ে পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, আমরা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। অভিযুক্তকে এরই মধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা প্রতিটি অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে। অপরাধী যেই হোক না কেন, প্রমাণ সাপেক্ষে তার উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।এদিকে, সচেতন নাগরিক ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিশুদের পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। শিশুদের সঙ্গে মেলামেশার ক্ষেত্রে শিক্ষক, কর্মচারী ও সিনিয়র শিক্ষার্থীদের আচরণের ওপর কড়া মনিটরিং থাকা জরুরি।এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীদের পরিবার এবং স্থানীয় জনসাধারণ। দৈনিক গণজাগরন সবসময় সমাজের প্রতিটি স্তরে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে বদ্ধপরিকর। শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ সমাজ গড়তে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।