দৈনিক গণজাগরণ

কড়াইল বস্তি থেকেই শুরু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, ১০ মার্চ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী



কড়াইল বস্তি থেকেই শুরু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, ১০ মার্চ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের দুস্থ ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। আগামী ১০ মার্চ রাজধানীর কড়াইল বস্তি থেকে এই বিশেষ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বগুড়ার সফর স্থগিত, উদ্বোধনের নতুন স্থান কড়াইল: প্রাথমিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর বগুড়া সফরে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করার কথা ছিল। তবে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ায় এবং নির্বাচনী আচরণবিধি রক্ষার স্বার্থে ওই সফরটি স্থগিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর কড়াইল বস্তি থেকে এই মানবিক কর্মসূচির সূচনা করবেন।

কার্ডের সুবিধা ও উপকারভোগী নির্বাচন: সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে হতদরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাবে। প্রতিটি কার্ডধারী পরিবার প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা লাভ করবে। নারীর ক্ষমতায়নের কথা বিবেচনা করে এই কার্ড সরাসরি পরিবারের মা অথবা পরিবারের নারী প্রধানের নামে ইস্যু করা হবে।

আধুনিক ও ডিজিটাল কার্ড: এই ফ্যামিলি কার্ডগুলো সাধারণ কার্ডের পরিবর্তে আধুনিক ডিজিটাল স্মার্ট কার্ডের আদলে তৈরি করা হচ্ছে। এতে কিউআর (QR) কোড সংযুক্ত থাকবে, যার মাধ্যমে পরিবারের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। মন্ত্রী আরও জানান, কেবল দরিদ্ররাই নয়, পর্যায়ক্রমে দেশের সকল পরিবারকেই এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। তবে বিত্তবান পরিবারগুলো কার্ড পেলেও কোনো আর্থিক সুবিধা পাবে না; তাদের কার্ডটি রাষ্ট্রীয় তহবিলে অবদানের একটি স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য হবে।

স্বচ্ছতা ও তথ্য সংগ্রহ: মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে, কার্ডের তথ্য সংগ্রহে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না এবং এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। ইতিমধ্যে রাজধানীর কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক বস্তিসহ বেশ কিছু এলাকায় প্রায় ৪৪ হাজার পরিবারকে ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আগামী ১০ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্ড বিতরণ শুরু হওয়ার পাশাপাশি একই দিনে দেশের আরও ১৪টি স্থানে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হবে। আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি পরিবারকে এই ডিজিটাল ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক গণজাগরণ

মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬


কড়াইল বস্তি থেকেই শুরু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, ১০ মার্চ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মার্চ ২০২৬

featured Image

দেশের দুস্থ ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। আগামী ১০ মার্চ রাজধানীর কড়াইল বস্তি থেকে এই বিশেষ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বগুড়ার সফর স্থগিত, উদ্বোধনের নতুন স্থান কড়াইল: প্রাথমিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর বগুড়া সফরে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করার কথা ছিল। তবে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ায় এবং নির্বাচনী আচরণবিধি রক্ষার স্বার্থে ওই সফরটি স্থগিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর কড়াইল বস্তি থেকে এই মানবিক কর্মসূচির সূচনা করবেন।

কার্ডের সুবিধা ও উপকারভোগী নির্বাচন: সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে হতদরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাবে। প্রতিটি কার্ডধারী পরিবার প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা লাভ করবে। নারীর ক্ষমতায়নের কথা বিবেচনা করে এই কার্ড সরাসরি পরিবারের মা অথবা পরিবারের নারী প্রধানের নামে ইস্যু করা হবে।

আধুনিক ও ডিজিটাল কার্ড: এই ফ্যামিলি কার্ডগুলো সাধারণ কার্ডের পরিবর্তে আধুনিক ডিজিটাল স্মার্ট কার্ডের আদলে তৈরি করা হচ্ছে। এতে কিউআর (QR) কোড সংযুক্ত থাকবে, যার মাধ্যমে পরিবারের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। মন্ত্রী আরও জানান, কেবল দরিদ্ররাই নয়, পর্যায়ক্রমে দেশের সকল পরিবারকেই এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। তবে বিত্তবান পরিবারগুলো কার্ড পেলেও কোনো আর্থিক সুবিধা পাবে না; তাদের কার্ডটি রাষ্ট্রীয় তহবিলে অবদানের একটি স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য হবে।

স্বচ্ছতা ও তথ্য সংগ্রহ: মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে, কার্ডের তথ্য সংগ্রহে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না এবং এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। ইতিমধ্যে রাজধানীর কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক বস্তিসহ বেশ কিছু এলাকায় প্রায় ৪৪ হাজার পরিবারকে ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আগামী ১০ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্ড বিতরণ শুরু হওয়ার পাশাপাশি একই দিনে দেশের আরও ১৪টি স্থানে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হবে। আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি পরিবারকে এই ডিজিটাল ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।


দৈনিক গণজাগরণ

সম্পাদক ও প্রকাশক- তপন রায় , প্রধান নির্বাহী সম্পাদক : আরমান ইসলাম , বার্তা সম্পাদক : বিধান রায়
দৈনিক গণজাগরণ