সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো আইনগতভাবে মোকাবিলা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, তিনি যেন দেশে ফিরে আসেন এবং চলমান বিচার প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হন।সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি খবরের সূত্র ধরে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংবাদটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকার চায় শেখ হাসিনা দেশে ফিরে মামলা মোকাবিলা করুন।অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন সংবাদমাধ্যমের সামনে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, সরকার চায় শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসুন এবং তাঁর দল গুছিয়ে আইনিভাবে মামলাগুলোর মোকাবিলা করুন। বর্তমানে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে না থাকলেও এবং প্রচারিত সংবাদটিতে তাঁর পুরোনো ছবি ব্যবহার করা হলেও, তাঁর সেই সময়কার বক্তব্য সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান হিসেবেই বিবেচিত হয়ে আসছে। ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাধিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মামলা দায়ের করা হয়। বিচার প্রক্রিয়া শেষে ইতোমধ্যে ট্রাইব্যুনাল থেকে রায়ও ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং প্রত্যর্পণের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনাও দেশে ফেরার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন যে, তিনি দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত এবং মাথা উঁচু করেই দ্রুত দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেলসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী আগে রাজনৈতিক বিরোধীদের 'সাহস থাকলে দেশে এসে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার' আহ্বান জানাতেন। এখন তাঁর নিজেরই উচিত সেই সাহস দেখিয়ে দেশে ফিরে আসা এবং আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া।সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরা এবং তাঁর বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে দেশের রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল রয়েছে। প্রচারিত খবরটির শিরোনামে থাকা বক্তব্যটি সরকারের সূচনালগ্নের একটি অবস্থানের প্রতিফলন হলেও, বর্তমান আইনি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সরকার তাঁকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর।