বাংলাদেশ    শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
দৈনিক গণজাগরণ

কারামুক্তির পথে সেলিনা হায়াৎ আইভী: ১০ মামলায় জামিন বহাল রাখল আপিল বিভাগ



কারামুক্তির পথে সেলিনা হায়াৎ আইভী: ১০ মামলায় জামিন বহাল রাখল আপিল বিভাগ

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী-র কারামুক্তির পথে আর কোনো আইনি বাধা রইল না। হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা ১০টি মামলায় তাঁর জামিন বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আজ রোববার (১০ মে) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনগুলো খারিজ করে এই রায় দেন। এর ফলে দীর্ঘ এক বছর পর তাঁর কারামুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত হলো বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

হাইকোর্ট এর আগে এই মামলাগুলোতে সাবেক মেয়র আইভীকে জামিন দিলেও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার আদালত তা স্থগিত করে বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়েছিল। আজ আপিল বিভাগের চূড়ান্ত আদেশের পর আইনি এই জটিলতার অবসান ঘটল।

আদালতে সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে আইনি লড়াইয়ে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মোতাহার হোসেন সাজু এবং ব্যারিস্টার সারা হোসেন

রায়ের পর আইনজীবী মো. মোতাহার হোসেন সাজু সংবাদমাধ্যমকে জানান:

আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে আইভীর মুক্তিতে আপাতত আর কোনো আইনি বাধা নেই।

হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশই সর্বোচ্চ আদালতে বহাল রাখা হয়েছে।

এখন কেবল কারাগারের কিছু দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই তিনি মুক্তি পাবেন।

ধারাবাহিক মামলা ও আইনি লড়াইয়ের পটভূমি

গত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। সেই ঘটনাবহুল সময়ের বিভিন্ন মামলার জের ধরেই আইভীকে দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটাতে হয়।

গ্রেপ্তার ও অপসারণ: গণ-অভ্যুত্থানের পর ১৮ আগস্ট তাঁকে মেয়রের পদ থেকে অপসারণ করা হয়। এরপর গত বছরের (২০২৫ সাল) ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগের নিজ বাসভবন 'চুনকা কুটির' থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার অভিযোগ: বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময়কার হত্যা, হত্যাচেষ্টা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মতো নানা অভিযোগে তাঁকে একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মোট ১২টি মামলায় তাঁকে জড়ানো হলেও তাঁর আইনজীবীরা জানান, অন্তত ৭টি মামলার প্রাথমিক তথ্যবিবরণীতে (এফআইআর) তাঁর নামই ছিল না।


দীর্ঘ এক বছরের বন্দিদশা: ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র এবং এরপর সিটি করপোরেশনের টানা তিনবারের নির্বাচিত এই জনপ্রতিনিধি গত এক বছর ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছিলেন। ধাপে ধাপে হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও রাষ্ট্রপক্ষের আপিলে বারবার তাঁর মুক্তি আটকে যাচ্ছিল। সর্বশেষ সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আরও দুটি মামলায়ও হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেন এবং নতুন কোনো অজ্ঞাত মামলায় তাঁকে হয়রানি বা গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ দেন।

 সর্বোচ্চ আদালতের আজকের এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক সিদ্ধান্ত, যা দীর্ঘ এক বছরের জটিল আইনি প্রক্রিয়ার অবসান ঘটাল। দেশের প্রথম নারী সিটি মেয়র হিসেবে পরিচিত সেলিনা হায়াৎ আইভীর কারামুক্তির জন্য এখন কেবল আইনি কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক গণজাগরণ

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


কারামুক্তির পথে সেলিনা হায়াৎ আইভী: ১০ মামলায় জামিন বহাল রাখল আপিল বিভাগ

প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী-র কারামুক্তির পথে আর কোনো আইনি বাধা রইল না। হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা ১০টি মামলায় তাঁর জামিন বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আজ রোববার (১০ মে) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনগুলো খারিজ করে এই রায় দেন। এর ফলে দীর্ঘ এক বছর পর তাঁর কারামুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত হলো বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

হাইকোর্ট এর আগে এই মামলাগুলোতে সাবেক মেয়র আইভীকে জামিন দিলেও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার আদালত তা স্থগিত করে বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়েছিল। আজ আপিল বিভাগের চূড়ান্ত আদেশের পর আইনি এই জটিলতার অবসান ঘটল।

আদালতে সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে আইনি লড়াইয়ে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মোতাহার হোসেন সাজু এবং ব্যারিস্টার সারা হোসেন

রায়ের পর আইনজীবী মো. মোতাহার হোসেন সাজু সংবাদমাধ্যমকে জানান:

আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে আইভীর মুক্তিতে আপাতত আর কোনো আইনি বাধা নেই।

হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশই সর্বোচ্চ আদালতে বহাল রাখা হয়েছে।

এখন কেবল কারাগারের কিছু দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই তিনি মুক্তি পাবেন।

ধারাবাহিক মামলা ও আইনি লড়াইয়ের পটভূমি

গত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। সেই ঘটনাবহুল সময়ের বিভিন্ন মামলার জের ধরেই আইভীকে দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটাতে হয়।

গ্রেপ্তার ও অপসারণ: গণ-অভ্যুত্থানের পর ১৮ আগস্ট তাঁকে মেয়রের পদ থেকে অপসারণ করা হয়। এরপর গত বছরের (২০২৫ সাল) ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগের নিজ বাসভবন 'চুনকা কুটির' থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার অভিযোগ: বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময়কার হত্যা, হত্যাচেষ্টা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মতো নানা অভিযোগে তাঁকে একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মোট ১২টি মামলায় তাঁকে জড়ানো হলেও তাঁর আইনজীবীরা জানান, অন্তত ৭টি মামলার প্রাথমিক তথ্যবিবরণীতে (এফআইআর) তাঁর নামই ছিল না।


দীর্ঘ এক বছরের বন্দিদশা: ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র এবং এরপর সিটি করপোরেশনের টানা তিনবারের নির্বাচিত এই জনপ্রতিনিধি গত এক বছর ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছিলেন। ধাপে ধাপে হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও রাষ্ট্রপক্ষের আপিলে বারবার তাঁর মুক্তি আটকে যাচ্ছিল। সর্বশেষ সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আরও দুটি মামলায়ও হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেন এবং নতুন কোনো অজ্ঞাত মামলায় তাঁকে হয়রানি বা গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ দেন।

 সর্বোচ্চ আদালতের আজকের এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক সিদ্ধান্ত, যা দীর্ঘ এক বছরের জটিল আইনি প্রক্রিয়ার অবসান ঘটাল। দেশের প্রথম নারী সিটি মেয়র হিসেবে পরিচিত সেলিনা হায়াৎ আইভীর কারামুক্তির জন্য এখন কেবল আইনি কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষা।


দৈনিক গণজাগরণ

সম্পাদক ও প্রকাশক- তপন রায় তপু , প্রধান নির্বাহী সম্পাদক : আরমান ইসলাম , বার্তা সম্পাদক : বিধান রায়
দৈনিক গণজাগরণ