প্রেমঘটিত এক বিরোধের জেরে জামালপুরে যাতায়াতের একটি রাস্তায় ইটের দেয়াল তুলে চলাচলের পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে ওই এলাকার অন্তত ২৫টি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং চরম বিপাকে দিন পার করছে। ঘটনাটি ঘটেছে জামালপুর সদর উপজেলার পৌরসভার পলিশা গ্রামে।ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাপ-দাদার আমল থেকেই তারা এই রাস্তাটি যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি একটি প্রেমের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে আকস্মিকভাবে রাস্তার মাঝখানে ইটের দেয়াল তুলে দেওয়া হয়। যাতায়াতের পথটি এভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা এবং অসুস্থ রোগীরা। অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর সদস্যরা এখন বাজারঘাট, হাসপাতাল কিংবা মসজিদেও স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করতে পারছেন না। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এটিই প্রথমবার নয়; এর আগেও অন্তত দুইবার অভিযুক্তরা রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছিল। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সাময়িকভাবে মীমাংসা করা হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অভিযুক্তদের সঙ্গে কোনো বিষয়ে সামান্য ঝামেলা হলেই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে চলাচলের এই রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়।রাস্তা বন্ধ করার এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কবির হোসেন বলেন, "জায়গাটি মূলত আমার বাবার। আমি বাকি তিন শরিককে চলাচলের জন্য মাত্র তিন ফুট রাস্তা দেব। এর বেশি জায়গা আমার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়।"এ বিষয়ে জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, "পৌরসভার পলিশা গ্রামে রাস্তা অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির তথ্য এবং জনসাধারণের কাছ থেকে আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"ব্যক্তিগত আক্রোশ বা দ্বন্দ্বের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ এভাবে বন্ধ করে দেওয়া মানবাধিকারের লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। অবরুদ্ধ এই ২৫টি পরিবার দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন, যাতে তারা অবিলম্বে তাদের চলাচলের অধিকার ফিরে পান এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।