বাংলাদেশে একসময় অ্যাসিড সন্ত্রাস এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছিল। কিন্তু কঠোর আইন প্রণয়ন, দ্রুত বিচার এবং দেশব্যাপী ব্যাপক সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে সেই অপরাধকে প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ঠিক একই মডেলে এবার শিশুদের ওপর হওয়া পাশবিক নির্যাতন ও সহিংসতা চিরতরে বন্ধ করার ডাক দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কন্যা ও সমাজকর্মী ডা. শামারুহ মির্জা।
সাম্প্রতিক সময়ে শিশু নিপীড়ন ও সহিংসতার ঘটনাগুলো সমাজের প্রতিটি স্তরে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য সমাজ নিশ্চিত করতে তিনি এই অভিনব ও কার্যকর প্রস্তাব তুলে ধরেছেন।
তাঁর এই আহ্বানের মূল বিষয়বস্তু হলো— অ্যাসিড নিক্ষেপকারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও সমাজ যেভাবে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছিল, শিশু নির্যাতনকারীদের ক্ষেত্রেও ঠিক একই রকম কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, নব্বইয়ের দশক এবং ২০০০ সালের শুরুর দিকে বাংলাদেশে অ্যাসিড নিক্ষেপ মহামারি আকার ধারণ করেছিল। তখন সরকার ২০০২ সালে ‘অ্যাসিড অপরাধ দমন আইন’ পাস করে, যেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়। পাশাপাশি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচারকাজ সম্পন্ন করা এবং দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। ফলে এই অপরাধ অবিশ্বাস্যভাবে কমে যায়।
ডা. শামারুহ মির্জার প্রস্তাবনার আলোকে সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, শিশুদের ক্ষেত্রেও এমন একটি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শিশু সুরক্ষার এই মডেলে মূলত কয়েকটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে:
শিশু নির্যাতনের যেকোনো অভিযোগ প্রমাণ হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ করা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
অ্যাসিড সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যেমন প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল, শিশু সুরক্ষায়ও প্রতিটি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনকে একযোগে কাজ করতে হবে।
অপরাধীরা যেন কোনোভাবেই আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।
একজন সচেতন নাগরিক ও সমাজকর্মী হিসেবে ফখরুলকন্যার এই বক্তব্য দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। অনেকেই মনে করছেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস করার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে শিশুদের জন্য একটি সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অ্যাসিড দমনের সেই সফল ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি শিশু সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়, তবে আগামী প্রজন্মকে একটি ভয়মুক্ত সমাজ উপহার দেওয়া সম্ভব। এখন প্রয়োজন শুধু রাষ্ট্র, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সদিচ্ছা।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
বাংলাদেশে একসময় অ্যাসিড সন্ত্রাস এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছিল। কিন্তু কঠোর আইন প্রণয়ন, দ্রুত বিচার এবং দেশব্যাপী ব্যাপক সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে সেই অপরাধকে প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ঠিক একই মডেলে এবার শিশুদের ওপর হওয়া পাশবিক নির্যাতন ও সহিংসতা চিরতরে বন্ধ করার ডাক দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কন্যা ও সমাজকর্মী ডা. শামারুহ মির্জা।
সাম্প্রতিক সময়ে শিশু নিপীড়ন ও সহিংসতার ঘটনাগুলো সমাজের প্রতিটি স্তরে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য সমাজ নিশ্চিত করতে তিনি এই অভিনব ও কার্যকর প্রস্তাব তুলে ধরেছেন।
তাঁর এই আহ্বানের মূল বিষয়বস্তু হলো— অ্যাসিড নিক্ষেপকারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও সমাজ যেভাবে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছিল, শিশু নির্যাতনকারীদের ক্ষেত্রেও ঠিক একই রকম কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, নব্বইয়ের দশক এবং ২০০০ সালের শুরুর দিকে বাংলাদেশে অ্যাসিড নিক্ষেপ মহামারি আকার ধারণ করেছিল। তখন সরকার ২০০২ সালে ‘অ্যাসিড অপরাধ দমন আইন’ পাস করে, যেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়। পাশাপাশি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচারকাজ সম্পন্ন করা এবং দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। ফলে এই অপরাধ অবিশ্বাস্যভাবে কমে যায়।
ডা. শামারুহ মির্জার প্রস্তাবনার আলোকে সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, শিশুদের ক্ষেত্রেও এমন একটি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শিশু সুরক্ষার এই মডেলে মূলত কয়েকটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে:
শিশু নির্যাতনের যেকোনো অভিযোগ প্রমাণ হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ করা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
অ্যাসিড সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যেমন প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল, শিশু সুরক্ষায়ও প্রতিটি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনকে একযোগে কাজ করতে হবে।
অপরাধীরা যেন কোনোভাবেই আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।
একজন সচেতন নাগরিক ও সমাজকর্মী হিসেবে ফখরুলকন্যার এই বক্তব্য দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। অনেকেই মনে করছেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস করার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে শিশুদের জন্য একটি সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অ্যাসিড দমনের সেই সফল ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি শিশু সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়, তবে আগামী প্রজন্মকে একটি ভয়মুক্ত সমাজ উপহার দেওয়া সম্ভব। এখন প্রয়োজন শুধু রাষ্ট্র, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সদিচ্ছা।

আপনার মতামত লিখুন