বাংলাদেশ    শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
দৈনিক গণজাগরণ

সাতক্ষীরায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে শিক্ষক কারাগারে: ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি অভিযুক্তের



সাতক্ষীরায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে শিক্ষক কারাগারে: ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি অভিযুক্তের

সাতক্ষীরার সদর উপজেলার বল্লী মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে গৌরাঙ্গ সরকার নামের এক গণিত শিক্ষককে মারধরের পর পুলিশে সোপর্দ করেছে উত্তেজিত জনতা। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে এই ঘটনাটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অভিযুক্ত শিক্ষকের দাবি, তিনি মূলত বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সহকর্মীদের ষড়যন্ত্রের শিকার।

স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৭ মে নবম শ্রেণির একটি ক্লাসে পড়ানোর সময় ধর্মীয় বিষয়ে কিছু মন্তব্য করেন শিক্ষক গৌরাঙ্গ সরকার। পরবর্তীতে কয়েকজন শিক্ষার্থী বিষয়টি বিদ্যালয়ের বাইরে জানালে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর জের ধরে মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কয়েকজন বহিরাগত যুবক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে শিক্ষক মিলনায়তনে তাঁকে মারধর করে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অন্য শিক্ষকেরা গৌরাঙ্গ সরকারকে জনসম্মুখে ক্ষমা চাইতে বলেন। কিন্তু তিনি মাইকে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গেলে উত্তেজিত জনতা আবারও তাঁর ওপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

আদালত চত্বরে অভিযুক্ত শিক্ষক গৌরাঙ্গ সরকার তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন,

আমি মূলত ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের কোরবানি বন্ধের সমালোচনা করেছিলাম। কিন্তু আমার বক্তব্যকে সম্পূর্ণ বিকৃতভাবে বাইরে ছড়ানো হয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ দলাদলির কারণে আমাকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থীর কথায়ও এই দাবির আংশিক সত্যতা পাওয়া যায়। তারা জানায়, অংকের ক্লাস শেষে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মুসলিমদের কোরবানি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে তাঁর কথাগুলো ভুলভাবে উপস্থাপন করে বাইরে ছড়ানো হয়।

বিদ্যালয়টিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে কয়েকজন অভিভাবক ও শিক্ষক অভিযোগ করেছেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং অপর এক শিক্ষকের মধ্যকার এই দ্বন্দ্বের কারণেই একটি সাধারণ আলোচনা এত বড় অপ্রীতিকর ঘটনায় রূপ নিয়েছে বলে অনেকের ধারণা।

বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক আনোয়ার হোসেন ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন,

সকালে কয়েকজন বহিরাগত ব্যক্তি এসে স্যারকে চড়-থাপ্পড় মারে। পরে তাঁকে কান ধরে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। কিন্তু তিনি যখন প্রকৃত ঘটনাটি সবাইকে বুঝিয়ে বলতে যান, তখন তাঁর ওপর আবারও হামলা চালানো হয়।

অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামিলুর রহমান জানান, “ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্যের কারণে স্থানীয়রা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় বাধ্য হয়ে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতেই আব্দুর রউফ নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। বুধবার সকালে ওই মামলায় গৌরাঙ্গ সরকারকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

সার্বিক বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান জানান,

ধর্ম ও ধর্মীয় জনগোষ্ঠীকে হেয় করার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখছি। তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক গণজাগরণ

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


সাতক্ষীরায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে শিক্ষক কারাগারে: ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি অভিযুক্তের

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image

সাতক্ষীরার সদর উপজেলার বল্লী মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে গৌরাঙ্গ সরকার নামের এক গণিত শিক্ষককে মারধরের পর পুলিশে সোপর্দ করেছে উত্তেজিত জনতা। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে এই ঘটনাটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অভিযুক্ত শিক্ষকের দাবি, তিনি মূলত বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সহকর্মীদের ষড়যন্ত্রের শিকার।

স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৭ মে নবম শ্রেণির একটি ক্লাসে পড়ানোর সময় ধর্মীয় বিষয়ে কিছু মন্তব্য করেন শিক্ষক গৌরাঙ্গ সরকার। পরবর্তীতে কয়েকজন শিক্ষার্থী বিষয়টি বিদ্যালয়ের বাইরে জানালে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর জের ধরে মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কয়েকজন বহিরাগত যুবক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে শিক্ষক মিলনায়তনে তাঁকে মারধর করে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অন্য শিক্ষকেরা গৌরাঙ্গ সরকারকে জনসম্মুখে ক্ষমা চাইতে বলেন। কিন্তু তিনি মাইকে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গেলে উত্তেজিত জনতা আবারও তাঁর ওপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

আদালত চত্বরে অভিযুক্ত শিক্ষক গৌরাঙ্গ সরকার তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন,

আমি মূলত ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের কোরবানি বন্ধের সমালোচনা করেছিলাম। কিন্তু আমার বক্তব্যকে সম্পূর্ণ বিকৃতভাবে বাইরে ছড়ানো হয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ দলাদলির কারণে আমাকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থীর কথায়ও এই দাবির আংশিক সত্যতা পাওয়া যায়। তারা জানায়, অংকের ক্লাস শেষে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মুসলিমদের কোরবানি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে তাঁর কথাগুলো ভুলভাবে উপস্থাপন করে বাইরে ছড়ানো হয়।

বিদ্যালয়টিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে কয়েকজন অভিভাবক ও শিক্ষক অভিযোগ করেছেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং অপর এক শিক্ষকের মধ্যকার এই দ্বন্দ্বের কারণেই একটি সাধারণ আলোচনা এত বড় অপ্রীতিকর ঘটনায় রূপ নিয়েছে বলে অনেকের ধারণা।

বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক আনোয়ার হোসেন ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন,

সকালে কয়েকজন বহিরাগত ব্যক্তি এসে স্যারকে চড়-থাপ্পড় মারে। পরে তাঁকে কান ধরে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। কিন্তু তিনি যখন প্রকৃত ঘটনাটি সবাইকে বুঝিয়ে বলতে যান, তখন তাঁর ওপর আবারও হামলা চালানো হয়।

অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামিলুর রহমান জানান, “ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্যের কারণে স্থানীয়রা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় বাধ্য হয়ে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতেই আব্দুর রউফ নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। বুধবার সকালে ওই মামলায় গৌরাঙ্গ সরকারকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

সার্বিক বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান জানান,

ধর্ম ও ধর্মীয় জনগোষ্ঠীকে হেয় করার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখছি। তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।


দৈনিক গণজাগরণ

সম্পাদক ও প্রকাশক- তপন রায় তপু , প্রধান নির্বাহী সম্পাদক : আরমান ইসলাম , বার্তা সম্পাদক : বিধান রায়
দৈনিক গণজাগরণ