বাংলাদেশ    শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
দৈনিক গণজাগরণ

একনেক সভায় দেশের বৃহৎ পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন: ব্যয় ৩৫ হাজার কোটি টাকা



একনেক সভায় দেশের বৃহৎ পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন: ব্যয় ৩৫ হাজার কোটি টাকা

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও সুপেয় পানির দীর্ঘস্থায়ী সংকট নিরসনে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় বহুল আলোচিত 'পদ্মা ব্যারেজ' বা পদ্মা বাঁধ প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। আজ বুধবার অনুষ্ঠিত এই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে প্রকল্পটি পাশ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা যায়, একনেকের এই সভায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারক, পরিকল্পনাবিদ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বিস্তারিত পর্যালোচনা ও আলোচনার পর দেশের সার্বিক পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ রক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের বৃহত্তর স্বার্থে এই বিপুল বাজেটের প্রকল্পটিতে চূড়ান্ত সম্মতি প্রদান করা হয়।

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে উজান থেকে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় দেশের বিস্তীর্ণ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তীব্র মিঠা পানির সংকট দেখা দেয়। একইসাথে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি মূল ভূখণ্ডের নদীগুলোতে প্রবেশ করে কৃষিকাজ, মিঠা পানির মৎস্য সম্পদ এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যেসকল সুবিধা পাওয়া যাবে:

  বর্ষা মৌসুমের উদ্বৃত্ত পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহারের জন্য একটি বিশাল মিঠা পানির আধার তৈরি করা সম্ভব হবে।

 রাজবাড়ী, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া থেকে শুরু করে বৃহত্তর খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার সেচ ব্যবস্থা এই সংরক্ষিত পানির ওপর নির্ভর করে পরিচালিত হতে পারবে, যা ফসল উৎপাদন বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

 দক্ষিণাঞ্চলের নদীগুলোতে মিঠা পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার মাধ্যমে সমুদ্রের লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ ঠেকানো যাবে। এটি বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও গাছপালা রক্ষায় সরাসরি ভূমিকা পালন করবে।

অর্থনীতিবিদ ও নদী বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩৫ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কৃষিখাতে অভাবনীয় সাফল্যের পাশাপাশি এই অঞ্চলে সেচ, মৎস্য চাষ ও নৌ-যোগাযোগ কেন্দ্রিক নতুন কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় স্বার্থে এই প্রকল্পের কাজ অত্যন্ত স্বচ্ছতা, দ্রুততা ও সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে। পানিসম্পদ রক্ষায় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় পদ্মা ব্যারেজ ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য একটি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক গণজাগরণ

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


একনেক সভায় দেশের বৃহৎ পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন: ব্যয় ৩৫ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬

featured Image

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও সুপেয় পানির দীর্ঘস্থায়ী সংকট নিরসনে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় বহুল আলোচিত 'পদ্মা ব্যারেজ' বা পদ্মা বাঁধ প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। আজ বুধবার অনুষ্ঠিত এই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে প্রকল্পটি পাশ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা যায়, একনেকের এই সভায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারক, পরিকল্পনাবিদ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বিস্তারিত পর্যালোচনা ও আলোচনার পর দেশের সার্বিক পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ রক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের বৃহত্তর স্বার্থে এই বিপুল বাজেটের প্রকল্পটিতে চূড়ান্ত সম্মতি প্রদান করা হয়।

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে উজান থেকে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় দেশের বিস্তীর্ণ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তীব্র মিঠা পানির সংকট দেখা দেয়। একইসাথে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি মূল ভূখণ্ডের নদীগুলোতে প্রবেশ করে কৃষিকাজ, মিঠা পানির মৎস্য সম্পদ এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যেসকল সুবিধা পাওয়া যাবে:

  বর্ষা মৌসুমের উদ্বৃত্ত পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহারের জন্য একটি বিশাল মিঠা পানির আধার তৈরি করা সম্ভব হবে।

 রাজবাড়ী, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া থেকে শুরু করে বৃহত্তর খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার সেচ ব্যবস্থা এই সংরক্ষিত পানির ওপর নির্ভর করে পরিচালিত হতে পারবে, যা ফসল উৎপাদন বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

 দক্ষিণাঞ্চলের নদীগুলোতে মিঠা পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার মাধ্যমে সমুদ্রের লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ ঠেকানো যাবে। এটি বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও গাছপালা রক্ষায় সরাসরি ভূমিকা পালন করবে।

অর্থনীতিবিদ ও নদী বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩৫ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কৃষিখাতে অভাবনীয় সাফল্যের পাশাপাশি এই অঞ্চলে সেচ, মৎস্য চাষ ও নৌ-যোগাযোগ কেন্দ্রিক নতুন কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় স্বার্থে এই প্রকল্পের কাজ অত্যন্ত স্বচ্ছতা, দ্রুততা ও সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে। পানিসম্পদ রক্ষায় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় পদ্মা ব্যারেজ ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য একটি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।


দৈনিক গণজাগরণ

সম্পাদক ও প্রকাশক- তপন রায় তপু , প্রধান নির্বাহী সম্পাদক : আরমান ইসলাম , বার্তা সম্পাদক : বিধান রায়
দৈনিক গণজাগরণ