ভারতে একটি বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে দেশটির পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা। এই হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি নাগরিক। সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ু থেকে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল ও স্থানীয় প্রশাসন।বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা ভারতের জনবহুল ও স্পর্শকাতর এলাকায় একটি বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে গোয়েন্দাদের তৎপরতায় তাদের সেই গভীর ছক ভেস্তে যায়।ভারতীয় পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত আটজনের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি বগুড়ায়, একজনের ঝালকাঠিতে এবং আরেকজনের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে। তারা হলেন: * মিজানুর রহমান (৩২) - বগুড়া * জাহিদুল ইসলাম (৪০) - বগুড়া * মোহাম্মদ লিটন (৪০) - বগুড়া * মোহাম্মদ উজ্জ্বল (২৭) - বগুড়া * উমর ফারুক (৩২) - বগুড়া * মো. শাফায়েত হোসাইন (৩৪) - ঝালকাঠি * রবিউল ইসলাম (২৭) - ঠাকুরগাঁওজানা গেছে, এই চক্রের মূল হোতা বা মাস্টারমাইন্ড হিসেবে শাব্বির আহমেদ লোন নামের এক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। দিল্লি পুলিশের দাবি, শাব্বির আহমেদ দীর্ঘদিন বাংলাদেশে আত্মগোপনে ছিলেন এবং ঢাকার পার্শ্ববর্তী একটি গোপন আস্তানা থেকে এই পুরো সেলের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। পরবর্তীতে তিনি নেপাল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন এবং তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশিরা তামিলনাড়ুর তিরুপুর এবং পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় পোশাক কারখানার শ্রমিকের ছদ্মবেশে অবস্থান করছিলেন। মূলত সাধারণ পেশার আড়ালেই তারা এই নাশকতার জাল বুনছিলেন। তারা ইতোমধ্যেই ভারতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরের জনবহুল এলাকায় রেকি (পর্যবেক্ষণ) ও ড্রাই-রান সম্পন্ন করেছিলেন। নিজেদের মধ্যে ও সীমান্ত পারের নির্দেশদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তারা একাধিক বেনামি সিম কার্ড এবং ইন্টারনেট মাধ্যম ব্যবহার করতেন।পুলিশি অভিযানে কলকাতা ও তামিলনাড়ুর গোপন আস্তানা থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও সন্দেহজনক সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ১০টি মোবাইল ফোন ও ১৬টি সিম কার্ড, ২৫টি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড , ৫টি পয়েন্ট অব সেল (পজ) বা কার্ড সোয়াইপ মেশিন, বাংলাদেশি পাসপোর্ট, উগ্রবাদকে উসকে দেয় এমন বেশ কিছু পোস্টার ও নথিপত্রএই গ্রেপ্তারের পর ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। পুরো চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, অর্থের জোগান কোথা থেকে আসছিল এবং তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য ঠিক কী ছিল— তা নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে ভারতের একাধিক বিশেষায়িত গোয়েন্দা সংস্থা।