বাংলাদেশ    শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
দৈনিক গণজাগরণ

হিজবুল্লাহর অত্যাধুনিক ফাইবার-অপটিক ড্রোনের মুখে নতুন চ্যালেঞ্জে ইসরায়েল



হিজবুল্লাহর অত্যাধুনিক ফাইবার-অপটিক ড্রোনের মুখে নতুন চ্যালেঞ্জে ইসরায়েল

সম্প্রতি লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত নতুন প্রযুক্তির ‘ফাইবার-অপটিক’ ড্রোন মোকাবিলায় কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। প্রথাগত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে এসব ড্রোন আটকানো সম্ভব না হওয়ায় রণক্ষেত্রে নতুন এক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই বিশেষ ড্রোনগুলো বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য অন্যতম বড় সামরিক মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাধারণত প্রচলিত ড্রোনগুলো রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি বা ওয়্যারলেস সিগন্যালের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যা শক্তিশালী ‘ইলেকট্রনিক জ্যামিং’ প্রযুক্তির মাধ্যমে খুব সহজেই অকেজো বা বিকল করে দেওয়া যায়। কিন্তু ফাইবার-অপটিক ড্রোনগুলোর কার্যপদ্ধতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

এই ড্রোনগুলোতে বেতার তরঙ্গের পরিবর্তে একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ফাইবার অপটিক কেবল (সুতার মতো তার) যুক্ত থাকে, যা ড্রোন ও অপারেটরের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে। ফলে ইসরায়েলের অত্যাধুনিক সিগন্যাল জ্যামিং বা ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম এর ওপর কোনো প্রভাবই ফেলতে পারে না।

ফাইবার অপটিক কেবলের মাধ্যমে কোনো রকম বাধা বা সিগন্যাল ড্রপ ছাড়াই উচ্চ রেজোলিউশনের লাইভ ভিডিও এবং ছবি সরাসরি অপারেটরের কাছে পৌঁছায়। এর ফলে অপারেটর খুব সহজেই নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোনটিকে আঘাত হানাতে পারেন। যেহেতু এই ড্রোন কোনো রেডিও সিগন্যাল বা ওয়াইফাই ব্যবহার করে না, তাই রাডারের মাধ্যমে এটি কোথা থেকে ওড়ানো হচ্ছে, তা শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলোর (যেমন: দ্য জেরুজালেম পোস্ট, কান রেডিও) প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য এই ‘ফার্স্ট পারসন ভিউ’ (এফপিভি) ফাইবার-অপটিক ড্রোনগুলো রীতিমতো আতঙ্ক তৈরি করেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, এই ড্রোন শনাক্ত এবং ধ্বংস করার মতো নির্ভরযোগ্য কোনো ব্যবস্থা আপাতত তাদের হাতে নেই।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে এই প্রযুক্তির ড্রোনের ব্যাপক সাফল্যের পর, এখন হিজবুল্লাহ তাদের সামরিক ভাণ্ডারে এটি যুক্ত করেছে। ওজনে হালকা এবং তুলনামূলকভাবে কম খরচে তৈরি এসব ড্রোন ইসরায়েলের শক্তিশালী ‘আয়রন ডোম’-এর মতো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হচ্ছে।

আধুনিক এই সমরাস্ত্রের ব্যবহার প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক রণকৌশল সম্পূর্ণ নতুন এক যুগে প্রবেশ করেছে। এই অপ্রত্যাশিত হুমকি মোকাবিলায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দ্রুত নতুন কোনো প্রযুক্তি বা ট্র্যাকিং সিস্টেম উদ্ভাবন করতে পারে কি না, সেটিই এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়।


আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক গণজাগরণ

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


হিজবুল্লাহর অত্যাধুনিক ফাইবার-অপটিক ড্রোনের মুখে নতুন চ্যালেঞ্জে ইসরায়েল

প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬

featured Image

সম্প্রতি লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত নতুন প্রযুক্তির ‘ফাইবার-অপটিক’ ড্রোন মোকাবিলায় কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। প্রথাগত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে এসব ড্রোন আটকানো সম্ভব না হওয়ায় রণক্ষেত্রে নতুন এক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই বিশেষ ড্রোনগুলো বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য অন্যতম বড় সামরিক মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাধারণত প্রচলিত ড্রোনগুলো রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি বা ওয়্যারলেস সিগন্যালের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যা শক্তিশালী ‘ইলেকট্রনিক জ্যামিং’ প্রযুক্তির মাধ্যমে খুব সহজেই অকেজো বা বিকল করে দেওয়া যায়। কিন্তু ফাইবার-অপটিক ড্রোনগুলোর কার্যপদ্ধতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

এই ড্রোনগুলোতে বেতার তরঙ্গের পরিবর্তে একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ফাইবার অপটিক কেবল (সুতার মতো তার) যুক্ত থাকে, যা ড্রোন ও অপারেটরের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে। ফলে ইসরায়েলের অত্যাধুনিক সিগন্যাল জ্যামিং বা ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম এর ওপর কোনো প্রভাবই ফেলতে পারে না।

ফাইবার অপটিক কেবলের মাধ্যমে কোনো রকম বাধা বা সিগন্যাল ড্রপ ছাড়াই উচ্চ রেজোলিউশনের লাইভ ভিডিও এবং ছবি সরাসরি অপারেটরের কাছে পৌঁছায়। এর ফলে অপারেটর খুব সহজেই নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোনটিকে আঘাত হানাতে পারেন। যেহেতু এই ড্রোন কোনো রেডিও সিগন্যাল বা ওয়াইফাই ব্যবহার করে না, তাই রাডারের মাধ্যমে এটি কোথা থেকে ওড়ানো হচ্ছে, তা শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলোর (যেমন: দ্য জেরুজালেম পোস্ট, কান রেডিও) প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য এই ‘ফার্স্ট পারসন ভিউ’ (এফপিভি) ফাইবার-অপটিক ড্রোনগুলো রীতিমতো আতঙ্ক তৈরি করেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, এই ড্রোন শনাক্ত এবং ধ্বংস করার মতো নির্ভরযোগ্য কোনো ব্যবস্থা আপাতত তাদের হাতে নেই।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে এই প্রযুক্তির ড্রোনের ব্যাপক সাফল্যের পর, এখন হিজবুল্লাহ তাদের সামরিক ভাণ্ডারে এটি যুক্ত করেছে। ওজনে হালকা এবং তুলনামূলকভাবে কম খরচে তৈরি এসব ড্রোন ইসরায়েলের শক্তিশালী ‘আয়রন ডোম’-এর মতো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হচ্ছে।

আধুনিক এই সমরাস্ত্রের ব্যবহার প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক রণকৌশল সম্পূর্ণ নতুন এক যুগে প্রবেশ করেছে। এই অপ্রত্যাশিত হুমকি মোকাবিলায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দ্রুত নতুন কোনো প্রযুক্তি বা ট্র্যাকিং সিস্টেম উদ্ভাবন করতে পারে কি না, সেটিই এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়।



দৈনিক গণজাগরণ

সম্পাদক ও প্রকাশক- তপন রায় তপু , প্রধান নির্বাহী সম্পাদক : আরমান ইসলাম , বার্তা সম্পাদক : বিধান রায়
দৈনিক গণজাগরণ