মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নিজেদের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ সরবরাহ করেছিল ইসরায়েল। সম্প্রতি এক মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যকার এই গভীর সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওই শীর্ষ কূটনীতিক দাবি করেছেন যে, আঞ্চলিক সংঘাত ও উত্তেজনার চরম মুহূর্তে ইসরায়েল তাদের অন্যতম মিত্র দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের সুরক্ষার কথা ভেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছিল। মূলত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী বা অন্যান্য আঞ্চলিক গোষ্ঠীর সম্ভাব্য মিসাইল ও ড্রোন হামলা থেকে আমিরাতের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতেই এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তর করা হয়।
‘আয়রন ডোম’ মূলত স্বল্প-পাল্লার রকেট, আর্টিলারি এবং ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম একটি অত্যন্ত কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের শহরগুলোকে শত্রুর রকেট হামলা থেকে বাঁচাতে এটি ব্যবহার করে আসছে। প্রযুক্তিগত দিক থেকে এটি বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি প্রতিরক্ষা ঢাল হিসেবে পরিচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত 'আব্রাহাম অ্যাকর্ডস'-এর মাধ্যমে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই দাবি যদি সম্পূর্ণ সত্য হয়, তবে এটি প্রমাণ করে যে দুই দেশের সম্পর্ক কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নে তারা একে অপরের অত্যন্ত বিশ্বস্ত সামরিক মিত্রে পরিণত হয়েছে।
তবে এই ‘আয়রন ডোম’ ঠিক কতগুলো ব্যাটারি বা কী চুক্তিতে আমিরাতকে দেওয়া হয়েছিল, কিংবা এটি এখনো সেখানে মোতায়েন রয়েছে কি না—সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য ওই মার্কিন কূটনীতিক প্রকাশ করেননি।
মধ্যপ্রাচ্যে যখন একদিকে সংঘাতের দামামা বাজছে, তখন আরব বিশ্বের একটি প্রভাবশালী দেশের সাথে ইসরায়েলের এই গভীর সামরিক বোঝাপড়া পুরো অঞ্চলের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, সাধারণ শত্রুর মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন পুরোনো শত্রুতা ভুলে নতুন মেরুকরণের দিকে এগোচ্ছে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নিজেদের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ সরবরাহ করেছিল ইসরায়েল। সম্প্রতি এক মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যকার এই গভীর সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওই শীর্ষ কূটনীতিক দাবি করেছেন যে, আঞ্চলিক সংঘাত ও উত্তেজনার চরম মুহূর্তে ইসরায়েল তাদের অন্যতম মিত্র দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের সুরক্ষার কথা ভেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছিল। মূলত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী বা অন্যান্য আঞ্চলিক গোষ্ঠীর সম্ভাব্য মিসাইল ও ড্রোন হামলা থেকে আমিরাতের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতেই এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তর করা হয়।
‘আয়রন ডোম’ মূলত স্বল্প-পাল্লার রকেট, আর্টিলারি এবং ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম একটি অত্যন্ত কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের শহরগুলোকে শত্রুর রকেট হামলা থেকে বাঁচাতে এটি ব্যবহার করে আসছে। প্রযুক্তিগত দিক থেকে এটি বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি প্রতিরক্ষা ঢাল হিসেবে পরিচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত 'আব্রাহাম অ্যাকর্ডস'-এর মাধ্যমে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই দাবি যদি সম্পূর্ণ সত্য হয়, তবে এটি প্রমাণ করে যে দুই দেশের সম্পর্ক কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নে তারা একে অপরের অত্যন্ত বিশ্বস্ত সামরিক মিত্রে পরিণত হয়েছে।
তবে এই ‘আয়রন ডোম’ ঠিক কতগুলো ব্যাটারি বা কী চুক্তিতে আমিরাতকে দেওয়া হয়েছিল, কিংবা এটি এখনো সেখানে মোতায়েন রয়েছে কি না—সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য ওই মার্কিন কূটনীতিক প্রকাশ করেননি।
মধ্যপ্রাচ্যে যখন একদিকে সংঘাতের দামামা বাজছে, তখন আরব বিশ্বের একটি প্রভাবশালী দেশের সাথে ইসরায়েলের এই গভীর সামরিক বোঝাপড়া পুরো অঞ্চলের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, সাধারণ শত্রুর মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন পুরোনো শত্রুতা ভুলে নতুন মেরুকরণের দিকে এগোচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন