বাংলাদেশ    শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
দৈনিক গণজাগরণ

পদ্মা ও তিস্তায় নতুন ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর: পানি ব্যবস্থাপনায় নতুন যুগ



পদ্মা ও তিস্তায় নতুন ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর: পানি ব্যবস্থাপনায় নতুন যুগ

দেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, কৃষিখাতের সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। দীর্ঘদিনের জনদাবি ও ভৌগোলিক প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনায় নিয়ে পদ্মা এবং তিস্তা নদীতে নতুন ব্যারাজ বা বহুমুখী পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানান।

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাছে তিস্তা নদীর পানি ব্যবস্থাপনা একটি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত এবং সংবেদনশীল ইস্যু। শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র অভাবে তিস্তা অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষিকাজ চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়। আবার বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানিতে দেখা দেয় অকাল বন্যা। অন্যদিকে, দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি রোধ করতে এবং মিঠা পানির প্রবাহ ধরে রাখতে পদ্মা নদীর ওপর একটি ব্যারাজ নির্মাণের আলোচনা দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষজ্ঞদের পর্যায়ে চলছে। সরকারের এই নতুন ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে দেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় একটি বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের টেকসই উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে বলেন, "কৃষকদের বাঁচাতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষা করতে আমাদের নিজস্ব পানি ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। উত্তরের খরা ও দক্ষিণের লবণাক্ততা দূর করতে সরকার পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের মতো বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেবে।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, নদীগুলোর নাব্য রক্ষা এবং বর্ষার পানি শুষ্ক মৌসুমের জন্য সংরক্ষণ করার মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

পরিবেশ ও নদী বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই দুটি প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তা দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।

 উত্তরের জেলাগুলো মরুভূমিকরণের হাত থেকে রক্ষা পাবে। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে এবং সারা বছর সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে।গড়াইসহ অন্যান্য শাখা নদীগুলোতে মিঠা পানির প্রবাহ বাড়বে। এর ফলে সুন্দরবন এবং দক্ষিণাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য লবণাক্ততার আগ্রাসন থেকে রক্ষা পাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, সরকারের এই ঘোষণার পর খুব শিগগিরই প্রকল্পগুলোর কারিগরি ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ দ্রুত গতিতে শুরু হবে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব নকশা প্রণয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

সরকারের এই সময়োপযোগী ঘোষণায় নদী তীরবর্তী অঞ্চলের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কৃষকদের মাঝে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিনের খরা ও বন্যার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার স্বপ্নে বুক বাঁধছেন উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষ।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক গণজাগরণ

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


পদ্মা ও তিস্তায় নতুন ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর: পানি ব্যবস্থাপনায় নতুন যুগ

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image

দেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, কৃষিখাতের সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। দীর্ঘদিনের জনদাবি ও ভৌগোলিক প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনায় নিয়ে পদ্মা এবং তিস্তা নদীতে নতুন ব্যারাজ বা বহুমুখী পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানান।

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাছে তিস্তা নদীর পানি ব্যবস্থাপনা একটি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত এবং সংবেদনশীল ইস্যু। শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র অভাবে তিস্তা অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষিকাজ চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়। আবার বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানিতে দেখা দেয় অকাল বন্যা। অন্যদিকে, দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি রোধ করতে এবং মিঠা পানির প্রবাহ ধরে রাখতে পদ্মা নদীর ওপর একটি ব্যারাজ নির্মাণের আলোচনা দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষজ্ঞদের পর্যায়ে চলছে। সরকারের এই নতুন ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে দেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় একটি বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের টেকসই উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে বলেন, "কৃষকদের বাঁচাতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষা করতে আমাদের নিজস্ব পানি ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। উত্তরের খরা ও দক্ষিণের লবণাক্ততা দূর করতে সরকার পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের মতো বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেবে।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, নদীগুলোর নাব্য রক্ষা এবং বর্ষার পানি শুষ্ক মৌসুমের জন্য সংরক্ষণ করার মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

পরিবেশ ও নদী বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই দুটি প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তা দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।

 উত্তরের জেলাগুলো মরুভূমিকরণের হাত থেকে রক্ষা পাবে। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে এবং সারা বছর সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে।গড়াইসহ অন্যান্য শাখা নদীগুলোতে মিঠা পানির প্রবাহ বাড়বে। এর ফলে সুন্দরবন এবং দক্ষিণাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য লবণাক্ততার আগ্রাসন থেকে রক্ষা পাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, সরকারের এই ঘোষণার পর খুব শিগগিরই প্রকল্পগুলোর কারিগরি ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ দ্রুত গতিতে শুরু হবে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব নকশা প্রণয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

সরকারের এই সময়োপযোগী ঘোষণায় নদী তীরবর্তী অঞ্চলের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কৃষকদের মাঝে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিনের খরা ও বন্যার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার স্বপ্নে বুক বাঁধছেন উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষ।


দৈনিক গণজাগরণ

সম্পাদক ও প্রকাশক- তপন রায় তপু , প্রধান নির্বাহী সম্পাদক : আরমান ইসলাম , বার্তা সম্পাদক : বিধান রায়
দৈনিক গণজাগরণ