দৈনিক গণজাগরণ

স্মৃতিসৌধে স্লোগান দিয়ে আটক সেই নারীকে মুক্তির নির্দেশ দিলেন আদালত



স্মৃতিসৌধে স্লোগান দিয়ে আটক সেই নারীকে মুক্তির নির্দেশ দিলেন আদালত

মহান স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে আটক হওয়া নারী তাহমিনা আক্তারকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকার জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা সুলতানা শুনানি শেষে তাকে এই মুক্তির আদেশ দেন।

আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনায় ঢাকা জেলা (দক্ষিণ) গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মুক্তালিব আদালতে একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। ওই প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন যে, তাহমিনা আক্তারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী, নাশকতামূলক বা সুনির্দিষ্ট কোনো অপরাধে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট না বুঝেই তিনি সেদিন স্মৃতিসৌধে গিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। তাই তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারার দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন করে পুলিশ। এই প্রতিবেদনটি আমলে নিয়েই বিচারক তাকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন।

তাহমিনা আক্তারের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “আদালত থেকে আজ তার মুক্তির আদেশ এসেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আশা করছি, আগামীকাল বৃহস্পতিবারই তিনি কারামুক্ত হবেন এবং তার সন্তানদের কাছে ফিরে যেতে পারবেন।”

গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে সকালে তিন কন্যা সন্তানকে সাথে নিয়ে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান তাহমিনা আক্তার। সেখানে তিনি শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন এবং তার কাছে কিছু রাজনৈতিক লিফলেটও দেখা যায়। এ সময় স্মৃতিসৌধে উপস্থিত সাধারণ দর্শনার্থীদের সাথে তার বাগবিতণ্ডা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেন। তবে সেসময় তার সাথে থাকা তিন অবুঝ শিশু সন্তানকে আটক করা হয়নি বলে প্রশাসন নিশ্চিত করেছিল। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তাহমিনা আক্তারের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার লালবাগ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। তিনি একসময় সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে চাকরি করতেন, তবে বর্তমানে কর্মহীন। তার স্বামী প্রবাসে থাকেন। পুলিশের প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে যে, পারিবারিক দিক থেকে তিনি কিছুটা বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করছিলেন।

অবশেষে পুলিশের ইতিবাচক প্রতিবেদন এবং আদালতের নির্দেশে ওই নারীর আইনি লড়াইয়ের অবসান হলো এবং তিনি মুক্তির স্বাদ পেতে যাচ্ছেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক গণজাগরণ

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬


স্মৃতিসৌধে স্লোগান দিয়ে আটক সেই নারীকে মুক্তির নির্দেশ দিলেন আদালত

প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মহান স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে আটক হওয়া নারী তাহমিনা আক্তারকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকার জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা সুলতানা শুনানি শেষে তাকে এই মুক্তির আদেশ দেন।

আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনায় ঢাকা জেলা (দক্ষিণ) গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মুক্তালিব আদালতে একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। ওই প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন যে, তাহমিনা আক্তারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী, নাশকতামূলক বা সুনির্দিষ্ট কোনো অপরাধে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট না বুঝেই তিনি সেদিন স্মৃতিসৌধে গিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। তাই তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারার দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন করে পুলিশ। এই প্রতিবেদনটি আমলে নিয়েই বিচারক তাকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন।

তাহমিনা আক্তারের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “আদালত থেকে আজ তার মুক্তির আদেশ এসেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আশা করছি, আগামীকাল বৃহস্পতিবারই তিনি কারামুক্ত হবেন এবং তার সন্তানদের কাছে ফিরে যেতে পারবেন।”

গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে সকালে তিন কন্যা সন্তানকে সাথে নিয়ে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান তাহমিনা আক্তার। সেখানে তিনি শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন এবং তার কাছে কিছু রাজনৈতিক লিফলেটও দেখা যায়। এ সময় স্মৃতিসৌধে উপস্থিত সাধারণ দর্শনার্থীদের সাথে তার বাগবিতণ্ডা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেন। তবে সেসময় তার সাথে থাকা তিন অবুঝ শিশু সন্তানকে আটক করা হয়নি বলে প্রশাসন নিশ্চিত করেছিল। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তাহমিনা আক্তারের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার লালবাগ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। তিনি একসময় সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে চাকরি করতেন, তবে বর্তমানে কর্মহীন। তার স্বামী প্রবাসে থাকেন। পুলিশের প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে যে, পারিবারিক দিক থেকে তিনি কিছুটা বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করছিলেন।

অবশেষে পুলিশের ইতিবাচক প্রতিবেদন এবং আদালতের নির্দেশে ওই নারীর আইনি লড়াইয়ের অবসান হলো এবং তিনি মুক্তির স্বাদ পেতে যাচ্ছেন।


দৈনিক গণজাগরণ

সম্পাদক ও প্রকাশক- তপন রায় , প্রধান নির্বাহী সম্পাদক : আরমান ইসলাম , বার্তা সম্পাদক : বিধান রায়
দৈনিক গণজাগরণ