গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ পুলিশের পোশাকে যে পরিবর্তন আনা হয়েছিল, তা নিয়ে বাহিনীর ভেতরেই তৈরি হয়েছে অসন্তোষ। নতুন পোশাকের মান, রং এবং আবহাওয়া উপযোগী না হওয়ার কারণে পুলিশ সদস্যরা পুনরায় তাদের পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ফিরে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়েও আলোচনা চলছে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুরনো পোশাকে ফিরে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশের কাঠামোগত সংস্কারের অংশ হিসেবে পোশাক পরিবর্তনের দাবি ওঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নতুন পোশাক চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু নতুন এই পোশাক ব্যবহারের পর থেকেই বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
নতুন পোশাকের ঘাম শুষে নেওয়ার ক্ষমতা অত্যন্ত কম, যা বাংলাদেশের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আবহাওয়ার জন্য একেবারেই অনুপযোগী। নতুন পোশাকের রং অন্যান্য বিভিন্ন বেসরকারি বা সাধারণ প্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্মের সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়। এর ফলে পুলিশ বাহিনীর নিজস্ব স্বকীয়তা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও এই পোশাক পরিবর্তনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং পুরনো পোশাকে ফেরার দাবি জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি পুলিশের সরবরাহকৃত কাপড়ের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে পুলিশ সদর দফতর তা ল্যাব টেস্টের জন্য পাঠায়। প্রাপ্ত রিপোর্টে দেখা গেছে, চুক্তিতে উল্লেখিত কাপড়ের আর্দ্রতা ধারণ ক্ষমতা এবং সুতার ঘনত্ব মান অনুযায়ী সরবরাহ করা হয়নি। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতর জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুতই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একটি অভ্যন্তরীণ জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৯৬ শতাংশেরও বেশি পুলিশ সদস্য তাদের আগের পোশাকে ফিরে যেতে ইচ্ছুক। নতুন পোশাকে সন্তুষ্ট এমন সদস্যের হার ১ শতাংশেরও কম। বাহিনীর এই বিপুল সংখ্যক সদস্যের মতামত ইতোমধ্যে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, "সর্বস্তরের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে আমি অনুধাবন করেছি, বর্তমানে পুলিশ বাহিনীর যে পোশাক, এই পোশাকে পুলিশ বাহিনী সন্তুষ্ট নয়। সুতরাং, যাতে আমাদের আগের ঐতিহ্যমণ্ডিত যেকোনো একটি পোশাক পুলিশ বাহিনী পায়, সে জন্য সরকারের সর্বোচ্চ মহলে আমরা আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্ত নেব।"
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পোশাক পুনরায় পরিবর্তন করা হলেও বাজেটে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না; কারণ শুধু কাপড়ের ধরন ও রঙের পরিবর্তন হবে এবং এর জন্য কোনো অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন নেই। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাহিনীর ভাবমূর্তি ও কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে শুধুমাত্র পোশাকের বদলই যথেষ্ট নয়। পুলিশকে সব ধরনের দলীয় বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ মুক্ত রাখা এবং তাদের পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় ও কার্যকর সংস্কার।

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬
গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ পুলিশের পোশাকে যে পরিবর্তন আনা হয়েছিল, তা নিয়ে বাহিনীর ভেতরেই তৈরি হয়েছে অসন্তোষ। নতুন পোশাকের মান, রং এবং আবহাওয়া উপযোগী না হওয়ার কারণে পুলিশ সদস্যরা পুনরায় তাদের পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ফিরে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়েও আলোচনা চলছে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুরনো পোশাকে ফিরে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশের কাঠামোগত সংস্কারের অংশ হিসেবে পোশাক পরিবর্তনের দাবি ওঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নতুন পোশাক চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু নতুন এই পোশাক ব্যবহারের পর থেকেই বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
নতুন পোশাকের ঘাম শুষে নেওয়ার ক্ষমতা অত্যন্ত কম, যা বাংলাদেশের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আবহাওয়ার জন্য একেবারেই অনুপযোগী। নতুন পোশাকের রং অন্যান্য বিভিন্ন বেসরকারি বা সাধারণ প্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্মের সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়। এর ফলে পুলিশ বাহিনীর নিজস্ব স্বকীয়তা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও এই পোশাক পরিবর্তনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং পুরনো পোশাকে ফেরার দাবি জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি পুলিশের সরবরাহকৃত কাপড়ের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে পুলিশ সদর দফতর তা ল্যাব টেস্টের জন্য পাঠায়। প্রাপ্ত রিপোর্টে দেখা গেছে, চুক্তিতে উল্লেখিত কাপড়ের আর্দ্রতা ধারণ ক্ষমতা এবং সুতার ঘনত্ব মান অনুযায়ী সরবরাহ করা হয়নি। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতর জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুতই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একটি অভ্যন্তরীণ জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৯৬ শতাংশেরও বেশি পুলিশ সদস্য তাদের আগের পোশাকে ফিরে যেতে ইচ্ছুক। নতুন পোশাকে সন্তুষ্ট এমন সদস্যের হার ১ শতাংশেরও কম। বাহিনীর এই বিপুল সংখ্যক সদস্যের মতামত ইতোমধ্যে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, "সর্বস্তরের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে আমি অনুধাবন করেছি, বর্তমানে পুলিশ বাহিনীর যে পোশাক, এই পোশাকে পুলিশ বাহিনী সন্তুষ্ট নয়। সুতরাং, যাতে আমাদের আগের ঐতিহ্যমণ্ডিত যেকোনো একটি পোশাক পুলিশ বাহিনী পায়, সে জন্য সরকারের সর্বোচ্চ মহলে আমরা আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্ত নেব।"
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পোশাক পুনরায় পরিবর্তন করা হলেও বাজেটে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না; কারণ শুধু কাপড়ের ধরন ও রঙের পরিবর্তন হবে এবং এর জন্য কোনো অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন নেই। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাহিনীর ভাবমূর্তি ও কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে শুধুমাত্র পোশাকের বদলই যথেষ্ট নয়। পুলিশকে সব ধরনের দলীয় বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ মুক্ত রাখা এবং তাদের পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় ও কার্যকর সংস্কার।

আপনার মতামত লিখুন