কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ বন্ধ রাখার জন্য ৫০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া ব্যক্তিদের নাম জনসম্মুখে প্রকাশ করার দাবিতে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। গত বুধবার (১ এপ্রিল) মো. হৃদয় হাসান নামের এক ব্যক্তির পক্ষে কুষ্টিয়া জজ কোর্টের আইনজীবী আব্দুল মজিদ এই লিগ্যাল নোটিশটি প্রেরণ করেন।
আইনি নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া ওই দুর্নীতিবাজদের নাম প্রকাশ করতে হবে অথবা তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে। রাষ্ট্রীয় ও শরিয়াহ আইন অনুযায়ী ঘুষদাতা এবং গ্রহীতা উভয়েই সমান অপরাধী। বিপুল অঙ্কের এই ঘুষের প্রস্তাবদাতাদের নাম প্রকাশ না করে এবং তাদের আইনের হাতে তুলে না দিয়ে মূলত অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার শামিল কাজ করা হচ্ছে বলে নোটিশে অভিযোগ করা হয়।দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠনে সহায়তা করার লক্ষ্যে এবং সাধারণ মানুষের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার পূরণে অবিলম্বে এই অপরাধীদের পরিচয় জাতির সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।
জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়া শহরে অনুষ্ঠিত একটি ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা প্রকাশ্যে দাবি করেন যে, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য মাত্র তিন দিনের মধ্যে তাকে ৫০ কোটি টাকার বেশি ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা দিয়েছিলেন, "আমাকে পুরো কুষ্টিয়া লিখে দিলেও আমি আমার অবস্থান থেকে একচুলও নড়ব না। এই পাঁচ বছর যদি দায়িত্বে থাকি, পাঁচটা টাকাও যেন অবৈধভাবে না আসে, সেভাবেই চলতে চাই।"
পরবর্তীতে তার এই বক্তব্যের ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যম ও জনপরিসরে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষের মাঝেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। অনেকেই সেই চিকিৎসা সেবা ব্যাহত করতে চাওয়া স্বার্থান্বেষী মহলের নাম ও পরিচয় প্রকাশের জোর দাবি জানান।
দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও দেশ গড়ার তাগিদেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নোটিশদাতা মো. হৃদয় হাসান। তিনি জানান, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা থেকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এর পেছনে কারা কলকাঠি নাড়ছে, তা দেশবাসীর জানার অধিকার রয়েছে।
নির্ধারিত সাত দিনের মধ্যে ঘুষ প্রস্তাবকারীদের পরিচয় প্রকাশ বা তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও নোটিশে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ বন্ধ রাখার জন্য ৫০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া ব্যক্তিদের নাম জনসম্মুখে প্রকাশ করার দাবিতে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। গত বুধবার (১ এপ্রিল) মো. হৃদয় হাসান নামের এক ব্যক্তির পক্ষে কুষ্টিয়া জজ কোর্টের আইনজীবী আব্দুল মজিদ এই লিগ্যাল নোটিশটি প্রেরণ করেন।
আইনি নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া ওই দুর্নীতিবাজদের নাম প্রকাশ করতে হবে অথবা তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে। রাষ্ট্রীয় ও শরিয়াহ আইন অনুযায়ী ঘুষদাতা এবং গ্রহীতা উভয়েই সমান অপরাধী। বিপুল অঙ্কের এই ঘুষের প্রস্তাবদাতাদের নাম প্রকাশ না করে এবং তাদের আইনের হাতে তুলে না দিয়ে মূলত অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার শামিল কাজ করা হচ্ছে বলে নোটিশে অভিযোগ করা হয়।দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠনে সহায়তা করার লক্ষ্যে এবং সাধারণ মানুষের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার পূরণে অবিলম্বে এই অপরাধীদের পরিচয় জাতির সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।
জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়া শহরে অনুষ্ঠিত একটি ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা প্রকাশ্যে দাবি করেন যে, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য মাত্র তিন দিনের মধ্যে তাকে ৫০ কোটি টাকার বেশি ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা দিয়েছিলেন, "আমাকে পুরো কুষ্টিয়া লিখে দিলেও আমি আমার অবস্থান থেকে একচুলও নড়ব না। এই পাঁচ বছর যদি দায়িত্বে থাকি, পাঁচটা টাকাও যেন অবৈধভাবে না আসে, সেভাবেই চলতে চাই।"
পরবর্তীতে তার এই বক্তব্যের ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যম ও জনপরিসরে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষের মাঝেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। অনেকেই সেই চিকিৎসা সেবা ব্যাহত করতে চাওয়া স্বার্থান্বেষী মহলের নাম ও পরিচয় প্রকাশের জোর দাবি জানান।
দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও দেশ গড়ার তাগিদেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নোটিশদাতা মো. হৃদয় হাসান। তিনি জানান, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা থেকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এর পেছনে কারা কলকাঠি নাড়ছে, তা দেশবাসীর জানার অধিকার রয়েছে।
নির্ধারিত সাত দিনের মধ্যে ঘুষ প্রস্তাবকারীদের পরিচয় প্রকাশ বা তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও নোটিশে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন