দৈনিক গণজাগরণ

বাহরাইনে মার্কিন নৌ ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা



বাহরাইনে মার্কিন নৌ ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবার আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কড়া জবাব দিতে এবার বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে সরাসরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।

ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রভাবশালী শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বাহরাইনের রাজধানী মানামার জুফায়ের এলাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের (ফিফথ ফ্লিট) সদর দপ্তর ছিল এই হামলার প্রধান লক্ষ্য। হামলার পরপরই ওই এলাকার আকাশে কুণ্ডলী পাকিয়ে কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা যায় এবং বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

বাহরাইন সরকার এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার পরপরই মানামা ও এর আশপাশের এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। স্থানীয় নাগরিকদের শান্ত থাকতে এবং দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বাহরাইন সরকার এই আক্রমণকে তাদের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ঘটনাস্থলে দ্রুত জরুরি উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিস মোতায়েন করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি ইরানের অভ্যন্তরে সামরিক স্থাপনা এবং শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার সরাসরি প্রতিশোধ হিসেবেই ইরান এই পদক্ষেপ নিয়েছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে সতর্ক করে জানিয়েছে, এই অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক স্বার্থ এখন তাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু। বাহরাইন ছাড়াও কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা অন্যান্য মার্কিন স্থাপনাগুলোতেও ইরানের হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এই আকস্মিক হামলার পর গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে বৃহৎ পরিসরে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাওয়ায়, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ থেকে তাদের জরুরি নয় এমন কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং নিজেদের সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রেখেছে।


আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক গণজাগরণ

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬


বাহরাইনে মার্কিন নৌ ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা

প্রকাশের তারিখ : ০৮ মার্চ ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবার আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কড়া জবাব দিতে এবার বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে সরাসরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।

ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রভাবশালী শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বাহরাইনের রাজধানী মানামার জুফায়ের এলাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের (ফিফথ ফ্লিট) সদর দপ্তর ছিল এই হামলার প্রধান লক্ষ্য। হামলার পরপরই ওই এলাকার আকাশে কুণ্ডলী পাকিয়ে কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা যায় এবং বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

বাহরাইন সরকার এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার পরপরই মানামা ও এর আশপাশের এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। স্থানীয় নাগরিকদের শান্ত থাকতে এবং দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বাহরাইন সরকার এই আক্রমণকে তাদের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ঘটনাস্থলে দ্রুত জরুরি উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিস মোতায়েন করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি ইরানের অভ্যন্তরে সামরিক স্থাপনা এবং শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার সরাসরি প্রতিশোধ হিসেবেই ইরান এই পদক্ষেপ নিয়েছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে সতর্ক করে জানিয়েছে, এই অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক স্বার্থ এখন তাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু। বাহরাইন ছাড়াও কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা অন্যান্য মার্কিন স্থাপনাগুলোতেও ইরানের হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এই আকস্মিক হামলার পর গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে বৃহৎ পরিসরে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাওয়ায়, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ থেকে তাদের জরুরি নয় এমন কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং নিজেদের সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রেখেছে।



দৈনিক গণজাগরণ

সম্পাদক ও প্রকাশক- তপন রায় , প্রধান নির্বাহী সম্পাদক : আরমান ইসলাম , বার্তা সম্পাদক : বিধান রায়
দৈনিক গণজাগরণ