চরম অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে নেমে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় মেটাতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছে দেশটি। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয় করতে বাধ্য হয়ে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পাকিস্তান সরকার। দেশটিতে স্কুল বন্ধ রাখার পাশাপাশি অফিসগুলোতে ‘হোম অফিস’ বা বাসা থেকে কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কমানো হয়েছে কর্মদিবস, অর্থাৎ বাড়ানো হয়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দিন।
সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, জ্বালানি তেল আমদানির বিপুল আর্থিক চাপ কমাতেই মূলত এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের জন্য ব্যক্তিগত ও গণপরিবহন ব্যবহার করেন, যাতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পুড়ে। স্কুল-কলেজ বন্ধ রেখে এবং চাকরিজীবীদের বাসায় থেকে কাজের সুযোগ করে দিলে রাস্তায় যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমে আসবে। ফলে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে বলে মনে করছেন দেশটির নীতিনির্ধারকরা।
নতুন এই নির্দেশনার ফলে সরকারি ও বেসরকারি বেশ কিছু অফিসে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো হয়েছে। যেসব কাজ সরাসরি অফিসে উপস্থিত না হয়েও করা সম্ভব, সেসব ক্ষেত্রে কর্মীদের বাসায় বসে প্রযুক্তির সাহায্যে কাজ করার (হোম অফিস) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে শুধু যাতায়াতের জ্বালানিই নয়, বরং অফিসগুলোর দৈনন্দিন বিদ্যুৎ খরচও অনেকটাই বেঁচে যাবে। অন্যদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতও বন্ধ হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি এড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার এর আগেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বাঁচাতে বিভিন্ন সময় মার্কেট, শপিংমল ও দোকানপাট রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করার মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম চড়া থাকায় এবং দেশের অভ্যন্তরে ডলারের চরম সংকটের কারণে এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া সরকারের আর কোনো উপায় ছিল না বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
সাধারণ জনগণের জন্য এই সিদ্ধান্তগুলো দৈনন্দিন জীবনে কিছুটা পরিবর্তন ও সাময়িক অসুবিধার কারণ হলেও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধসে পড়ার হাত থেকে বাঁচাতে এই সাশ্রয়ী পদক্ষেপগুলো মেনে নেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬
চরম অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে নেমে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় মেটাতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছে দেশটি। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয় করতে বাধ্য হয়ে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পাকিস্তান সরকার। দেশটিতে স্কুল বন্ধ রাখার পাশাপাশি অফিসগুলোতে ‘হোম অফিস’ বা বাসা থেকে কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কমানো হয়েছে কর্মদিবস, অর্থাৎ বাড়ানো হয়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দিন।
সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, জ্বালানি তেল আমদানির বিপুল আর্থিক চাপ কমাতেই মূলত এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের জন্য ব্যক্তিগত ও গণপরিবহন ব্যবহার করেন, যাতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পুড়ে। স্কুল-কলেজ বন্ধ রেখে এবং চাকরিজীবীদের বাসায় থেকে কাজের সুযোগ করে দিলে রাস্তায় যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমে আসবে। ফলে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে বলে মনে করছেন দেশটির নীতিনির্ধারকরা।
নতুন এই নির্দেশনার ফলে সরকারি ও বেসরকারি বেশ কিছু অফিসে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো হয়েছে। যেসব কাজ সরাসরি অফিসে উপস্থিত না হয়েও করা সম্ভব, সেসব ক্ষেত্রে কর্মীদের বাসায় বসে প্রযুক্তির সাহায্যে কাজ করার (হোম অফিস) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে শুধু যাতায়াতের জ্বালানিই নয়, বরং অফিসগুলোর দৈনন্দিন বিদ্যুৎ খরচও অনেকটাই বেঁচে যাবে। অন্যদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতও বন্ধ হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি এড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার এর আগেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বাঁচাতে বিভিন্ন সময় মার্কেট, শপিংমল ও দোকানপাট রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করার মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম চড়া থাকায় এবং দেশের অভ্যন্তরে ডলারের চরম সংকটের কারণে এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া সরকারের আর কোনো উপায় ছিল না বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
সাধারণ জনগণের জন্য এই সিদ্ধান্তগুলো দৈনন্দিন জীবনে কিছুটা পরিবর্তন ও সাময়িক অসুবিধার কারণ হলেও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধসে পড়ার হাত থেকে বাঁচাতে এই সাশ্রয়ী পদক্ষেপগুলো মেনে নেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সরকার।

আপনার মতামত লিখুন