দৈনিক গণজাগরণ

নেশার টাকা না পেয়ে মাকে পিটিয়ে নিজ ঘরে আগুন দিল পাষণ্ড ছেলে



নেশার টাকা না পেয়ে মাকে পিটিয়ে নিজ ঘরে আগুন দিল পাষণ্ড ছেলে

মাদকের বিষাক্ত ছোবলে ধ্বংস হচ্ছে একের পর এক পরিবার। নেশার ঘোরে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে বিপথগামী যুবসমাজ। এমনই এক হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে নেশার টাকা না পেয়ে নিজের গর্ভধারিণী মাকে নির্মমভাবে মারধর করেছে এক মাদকাসক্ত ছেলে। শুধু মারধর করেই সে ক্ষান্ত হয়নি, উন্মত্ত অবস্থায় নিজেদের মাথা গোঁজার শেষ সম্বল বসতঘরটিতেও আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই যুবক দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবনে আসক্ত। কোনো কাজকর্ম না করায় নেশার টাকা জোগাড় করতে সে প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের ওপর অত্যাচার চালাতো। ঘটনার দিন মাদকের টাকার জন্য সে তার মায়ের ওপর চাপ প্রয়োগ করে। কিন্তু অসহায় মায়ের কাছে কোনো টাকা না থাকায় তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ওই পাষণ্ড ছেলে। সে তার বয়োবৃদ্ধ মাকে অমানবিক নির্যাতন করে এবং এক পর্যায়ে রাগের বশবর্তী হয়ে বসতঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়।

আগুনের লেলিহান শিখায় মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনে পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, আসবাবপত্র ও শেষ সম্বলটুকুও ভস্মীভূত হয়ে গেছে। খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা অসহায় মায়ের কান্না আর আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। নিজের নাড়িছেঁড়া ধনের এমন নিষ্ঠুর আচরণে তিনি আজ নিঃস্ব এবং বাকরুদ্ধ। পোড়া ভিটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এই মায়ের অশ্রুসিক্ত মুখ সমাজের চরম অবক্ষয়ের কথাই মনে করিয়ে দেয়।

এলাকাবাসী জানান, মাদকের কারণে ওই পরিবারটিতে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছিল। ছেলের এমন অধঃপতনে মা সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকতেন এবং বহুবার তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর চেষ্টা করেছেন। প্রতিবেশীরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা দ্রুত ওই মাদকাসক্ত যুবককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন এবং তাকে পুনর্বাসন বা সংশোধনাগারে পাঠানোর জোর দাবি তুলেছেন।

মাদকের এই ভয়াল থাবা থেকে সমাজকে রক্ষা করতে এখন সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পারিবারিক সচেতনতার পাশাপাশি মাদক নির্মূলে প্রশাসনের আরও কঠোর হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক গণজাগরণ

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬


নেশার টাকা না পেয়ে মাকে পিটিয়ে নিজ ঘরে আগুন দিল পাষণ্ড ছেলে

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

মাদকের বিষাক্ত ছোবলে ধ্বংস হচ্ছে একের পর এক পরিবার। নেশার ঘোরে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে বিপথগামী যুবসমাজ। এমনই এক হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে নেশার টাকা না পেয়ে নিজের গর্ভধারিণী মাকে নির্মমভাবে মারধর করেছে এক মাদকাসক্ত ছেলে। শুধু মারধর করেই সে ক্ষান্ত হয়নি, উন্মত্ত অবস্থায় নিজেদের মাথা গোঁজার শেষ সম্বল বসতঘরটিতেও আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই যুবক দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবনে আসক্ত। কোনো কাজকর্ম না করায় নেশার টাকা জোগাড় করতে সে প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের ওপর অত্যাচার চালাতো। ঘটনার দিন মাদকের টাকার জন্য সে তার মায়ের ওপর চাপ প্রয়োগ করে। কিন্তু অসহায় মায়ের কাছে কোনো টাকা না থাকায় তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ওই পাষণ্ড ছেলে। সে তার বয়োবৃদ্ধ মাকে অমানবিক নির্যাতন করে এবং এক পর্যায়ে রাগের বশবর্তী হয়ে বসতঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়।

আগুনের লেলিহান শিখায় মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনে পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, আসবাবপত্র ও শেষ সম্বলটুকুও ভস্মীভূত হয়ে গেছে। খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা অসহায় মায়ের কান্না আর আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। নিজের নাড়িছেঁড়া ধনের এমন নিষ্ঠুর আচরণে তিনি আজ নিঃস্ব এবং বাকরুদ্ধ। পোড়া ভিটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এই মায়ের অশ্রুসিক্ত মুখ সমাজের চরম অবক্ষয়ের কথাই মনে করিয়ে দেয়।

এলাকাবাসী জানান, মাদকের কারণে ওই পরিবারটিতে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছিল। ছেলের এমন অধঃপতনে মা সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকতেন এবং বহুবার তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর চেষ্টা করেছেন। প্রতিবেশীরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা দ্রুত ওই মাদকাসক্ত যুবককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন এবং তাকে পুনর্বাসন বা সংশোধনাগারে পাঠানোর জোর দাবি তুলেছেন।

মাদকের এই ভয়াল থাবা থেকে সমাজকে রক্ষা করতে এখন সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পারিবারিক সচেতনতার পাশাপাশি মাদক নির্মূলে প্রশাসনের আরও কঠোর হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।


দৈনিক গণজাগরণ

সম্পাদক ও প্রকাশক- তপন রায় , প্রধান নির্বাহী সম্পাদক : আরমান ইসলাম , বার্তা সম্পাদক : বিধান রায়
দৈনিক গণজাগরণ