দৈনিক গণজাগরণ

তীব্র গরমে চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি কার্ডের দীর্ঘ সারি: অপেক্ষারত অবস্থায় স্ট্রোকে একজনের মৃত্যু



তীব্র গরমে চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি কার্ডের দীর্ঘ সারি: অপেক্ষারত অবস্থায় স্ট্রোকে একজনের মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গায় কৃষিখাতের জন্য বরাদ্দকৃত জ্বালানি তেলের কার্ড (ফুয়েল কার্ড) সংগ্রহ করতে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষারত অবস্থায় স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে একজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তীব্র রোদ ও গরমের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার কারণে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকার প্রদত্ত জ্বালানি কার্ড বা ফুয়েল কার্ড নিতে সকাল থেকেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইনের দৈর্ঘ্যও বাড়তে থাকে। তবে কার্ড বিতরণের ধীরগতি এবং প্রচণ্ড গরমের কারণে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষেরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। পর্যাপ্ত ছায়া বা বসার ব্যবস্থা না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার কারণে অনেকেই শারীরিকভাবে দুর্বল ও ক্লান্ত হয়ে পড়েন।

দীর্ঘক্ষণ এই তীব্র গরমে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার এক পর্যায়ে এক ব্যক্তি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। উপস্থিত লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার ফলে হিট স্ট্রোক বা ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েই তার মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারে বর্তমানে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের কান্নায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

এ ঘটনার পর কার্ড সংগ্রহ করতে আসা অন্যান্য মানুষ ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি, এ ধরনের সরকারি সেবামূলক কার্যক্রমে কর্তৃপক্ষের আরও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে তীব্র দাবদাহের সময় সেবাগ্রহীতাদের জন্য ছায়া, বসার স্থান এবং পর্যাপ্ত সুপেয় পানির ব্যবস্থা রাখা উচিত।

সচেতন মহল মনে করছেন, ডিজিটাল যুগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখার পরিবর্তে বিকল্প, সহজ ও দ্রুততর উপায়ে এসব কার্ড বিতরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক গণজাগরণ

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬


তীব্র গরমে চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি কার্ডের দীর্ঘ সারি: অপেক্ষারত অবস্থায় স্ট্রোকে একজনের মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬

featured Image

চুয়াডাঙ্গায় কৃষিখাতের জন্য বরাদ্দকৃত জ্বালানি তেলের কার্ড (ফুয়েল কার্ড) সংগ্রহ করতে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষারত অবস্থায় স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে একজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তীব্র রোদ ও গরমের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার কারণে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকার প্রদত্ত জ্বালানি কার্ড বা ফুয়েল কার্ড নিতে সকাল থেকেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইনের দৈর্ঘ্যও বাড়তে থাকে। তবে কার্ড বিতরণের ধীরগতি এবং প্রচণ্ড গরমের কারণে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষেরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। পর্যাপ্ত ছায়া বা বসার ব্যবস্থা না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার কারণে অনেকেই শারীরিকভাবে দুর্বল ও ক্লান্ত হয়ে পড়েন।

দীর্ঘক্ষণ এই তীব্র গরমে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার এক পর্যায়ে এক ব্যক্তি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। উপস্থিত লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার ফলে হিট স্ট্রোক বা ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েই তার মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারে বর্তমানে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের কান্নায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

এ ঘটনার পর কার্ড সংগ্রহ করতে আসা অন্যান্য মানুষ ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি, এ ধরনের সরকারি সেবামূলক কার্যক্রমে কর্তৃপক্ষের আরও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে তীব্র দাবদাহের সময় সেবাগ্রহীতাদের জন্য ছায়া, বসার স্থান এবং পর্যাপ্ত সুপেয় পানির ব্যবস্থা রাখা উচিত।

সচেতন মহল মনে করছেন, ডিজিটাল যুগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখার পরিবর্তে বিকল্প, সহজ ও দ্রুততর উপায়ে এসব কার্ড বিতরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



দৈনিক গণজাগরণ

সম্পাদক ও প্রকাশক- তপন রায় , প্রধান নির্বাহী সম্পাদক : আরমান ইসলাম , বার্তা সম্পাদক : বিধান রায়
দৈনিক গণজাগরণ