দৈনিক গণজাগরণ

মহাদেবপুরে বসতবাড়িতে হামলা: অস্ত্রের মুখে কলেজ ছাত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার অভিযোগ



মহাদেবপুরে বসতবাড়িতে হামলা: অস্ত্রের মুখে কলেজ ছাত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার অভিযোগ

 নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় দিনেদুপুরে এক বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে এক কলেজ ছাত্রীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত ২৯ মার্চ (২০২৬) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর উত্তরপাড়া গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর বাবা মহাদেবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর নাম কুমারী জনতা রানী (২২)। তিনি নওগাঁ সরকারি ডিগ্রি কলেজে অনার্স পড়ছেন। তাঁর বাবার নাম প্রেমানন্দ চন্দ্র বর্মন।

থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেল ৩টার দিকে বেশ কয়েকজন নামধারী ব্যক্তিসহ অজ্ঞাত আরও ৫০-৬০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র (হাসুয়া, দা, কুড়াল, বাঁশের লাঠি) নিয়ে বেআইনিভাবে প্রেমানন্দ চন্দ্র বর্মনের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় অভিযুক্তরা দাবি করে যে, তাদের মধ্যকার একজন গোপনে ওই ছাত্রীকে বিবাহ করেছে। পরিবারের লোকজন এমন দাবির প্রেক্ষিতে বিয়ের কাগজপত্র দেখতে চাইলে অভিযুক্তরা টালবাহানা শুরু করে।

একপর্যায়ে তাদেরকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বললে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। প্রাণ বাঁচাতে পরিবারের লোকজন দৌড়ে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে মূল দরজা বন্ধ করে দেন। কিন্তু হামলাকারীরা দরজা ভেঙে এবং দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা শ্রীমতি রুলি রানী (৫০), কাকি শ্রীমতি পয়লা (৩৫) এবং জেঠা শ্রীরাম বর্মনকে (৬১) মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এরপর অভিযুক্তরা কুমারী জনতা রানীর গলায় ধারালো চাকু ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেয় এবং জোরপূর্বক তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়।

এ সময় স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশী ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন এবং পরবর্তীতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। এমন দিনেদুপুরে বসতবাড়িতে হামলা ও অপহরণের ঘটনায় ওই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগীর বাবা প্রেমানন্দ চন্দ্র বর্মন তার মেয়েকে দ্রুত উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে বিনীত আকুতি জানিয়েছেন। প্রশাসন এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে জানা গেছে।


আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক গণজাগরণ

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬


মহাদেবপুরে বসতবাড়িতে হামলা: অস্ত্রের মুখে কলেজ ছাত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬

featured Image

 নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় দিনেদুপুরে এক বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে এক কলেজ ছাত্রীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত ২৯ মার্চ (২০২৬) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর উত্তরপাড়া গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর বাবা মহাদেবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর নাম কুমারী জনতা রানী (২২)। তিনি নওগাঁ সরকারি ডিগ্রি কলেজে অনার্স পড়ছেন। তাঁর বাবার নাম প্রেমানন্দ চন্দ্র বর্মন।

থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেল ৩টার দিকে বেশ কয়েকজন নামধারী ব্যক্তিসহ অজ্ঞাত আরও ৫০-৬০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র (হাসুয়া, দা, কুড়াল, বাঁশের লাঠি) নিয়ে বেআইনিভাবে প্রেমানন্দ চন্দ্র বর্মনের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় অভিযুক্তরা দাবি করে যে, তাদের মধ্যকার একজন গোপনে ওই ছাত্রীকে বিবাহ করেছে। পরিবারের লোকজন এমন দাবির প্রেক্ষিতে বিয়ের কাগজপত্র দেখতে চাইলে অভিযুক্তরা টালবাহানা শুরু করে।

একপর্যায়ে তাদেরকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বললে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। প্রাণ বাঁচাতে পরিবারের লোকজন দৌড়ে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে মূল দরজা বন্ধ করে দেন। কিন্তু হামলাকারীরা দরজা ভেঙে এবং দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা শ্রীমতি রুলি রানী (৫০), কাকি শ্রীমতি পয়লা (৩৫) এবং জেঠা শ্রীরাম বর্মনকে (৬১) মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এরপর অভিযুক্তরা কুমারী জনতা রানীর গলায় ধারালো চাকু ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেয় এবং জোরপূর্বক তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়।

এ সময় স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশী ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন এবং পরবর্তীতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। এমন দিনেদুপুরে বসতবাড়িতে হামলা ও অপহরণের ঘটনায় ওই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগীর বাবা প্রেমানন্দ চন্দ্র বর্মন তার মেয়েকে দ্রুত উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে বিনীত আকুতি জানিয়েছেন। প্রশাসন এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে জানা গেছে।



দৈনিক গণজাগরণ

সম্পাদক ও প্রকাশক- তপন রায় , প্রধান নির্বাহী সম্পাদক : আরমান ইসলাম , বার্তা সম্পাদক : বিধান রায়
দৈনিক গণজাগরণ