দৈনিক গণজাগরণ

পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা মঙ্গল শোভাযাত্রা নামেই হবে: সংস্কৃতিমন্ত্রী



পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা মঙ্গল শোভাযাত্রা নামেই হবে: সংস্কৃতিমন্ত্রী

আসন্ন পহেলা বৈশাখের ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রা তার চিরচেনা 'মঙ্গল শোভাযাত্রা' নামেই অনুষ্ঠিত হবে। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এই শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করে 'আনন্দ শোভাযাত্রা' করা হলেও, এবার তা স্বনামেই উদযাপিত হবে বলে জানিয়েছেন বর্তমান সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বাংলাদেশ সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা জানান।

সংস্কৃতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা বাঙালি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এটি ইউনেস্কো স্বীকৃত একটি আন্তর্জাতিক ঐতিহ্য। শোভাযাত্রার নাম 'মঙ্গল' নাকি 'আনন্দ' হবে—এ নিয়ে বিতর্ক সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়। তিনি মনে করেন, এ ধরনের অনর্থক বিতর্ক জাতিকে বিভক্ত করতে পারে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। মূল বিষয় হচ্ছে উৎসবের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করা এবং স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক বহিঃপ্রকাশ ঘটানো।

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "নববর্ষ উদযাপনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার 'মঙ্গল শোভাযাত্রা'র পরিবর্তে 'আনন্দ শোভাযাত্রা' নাম দিয়েছিল। আমরা তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই, তবে ঐতিহ্যের এই নামটি পরিবর্তন করার কোনো বাস্তবিক প্রয়োজন ছিল না। একটি সমাজে মানুষের চিন্তাভাবনা ও রাজনৈতিক আদর্শের পার্থক্য থাকতে পারে, এটিই গণতান্ত্রিক সমাজের সৌন্দর্য। তবে আমরা আনন্দ বা মঙ্গল—এমন নাম নিয়ে বিতর্ক করে ঐক্যবদ্ধ সমাজকে বিভক্ত করতে চাই না।"

আসন্ন নববর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, চিরায়ত ধারায় আনন্দমুখর পরিবেশে দেশব্যাপী পহেলা বৈশাখ পালিত হবে। ইতোমধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চারুকলা অনুষদ, বাংলা একাডেমি, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রায় ৫০টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় সভা সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলপনা, বৈশাখী মেলা এবং ঐতিহ্যবাহী গান-বাজনার আয়োজন করা হবে।

সরকার প্রগতিশীল ও জীবনমুখী সংস্কৃতি বিকাশে বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে নিতাই রায় চৌধুরী আরও বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক চর্চা—সবকিছু মিলিয়েই আমাদের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। তাই বাউল গান, লোকসংগীত, যাত্রা ও নাটকের মতো ঐতিহ্যবাহী ধারাগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণে বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য স্থাপন করে একটি আনন্দমুখর পরিবেশ গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক গণজাগরণ

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬


পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা মঙ্গল শোভাযাত্রা নামেই হবে: সংস্কৃতিমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬

featured Image

আসন্ন পহেলা বৈশাখের ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রা তার চিরচেনা 'মঙ্গল শোভাযাত্রা' নামেই অনুষ্ঠিত হবে। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এই শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করে 'আনন্দ শোভাযাত্রা' করা হলেও, এবার তা স্বনামেই উদযাপিত হবে বলে জানিয়েছেন বর্তমান সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বাংলাদেশ সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা জানান।

সংস্কৃতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা বাঙালি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এটি ইউনেস্কো স্বীকৃত একটি আন্তর্জাতিক ঐতিহ্য। শোভাযাত্রার নাম 'মঙ্গল' নাকি 'আনন্দ' হবে—এ নিয়ে বিতর্ক সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়। তিনি মনে করেন, এ ধরনের অনর্থক বিতর্ক জাতিকে বিভক্ত করতে পারে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। মূল বিষয় হচ্ছে উৎসবের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করা এবং স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক বহিঃপ্রকাশ ঘটানো।

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "নববর্ষ উদযাপনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার 'মঙ্গল শোভাযাত্রা'র পরিবর্তে 'আনন্দ শোভাযাত্রা' নাম দিয়েছিল। আমরা তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই, তবে ঐতিহ্যের এই নামটি পরিবর্তন করার কোনো বাস্তবিক প্রয়োজন ছিল না। একটি সমাজে মানুষের চিন্তাভাবনা ও রাজনৈতিক আদর্শের পার্থক্য থাকতে পারে, এটিই গণতান্ত্রিক সমাজের সৌন্দর্য। তবে আমরা আনন্দ বা মঙ্গল—এমন নাম নিয়ে বিতর্ক করে ঐক্যবদ্ধ সমাজকে বিভক্ত করতে চাই না।"

আসন্ন নববর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, চিরায়ত ধারায় আনন্দমুখর পরিবেশে দেশব্যাপী পহেলা বৈশাখ পালিত হবে। ইতোমধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চারুকলা অনুষদ, বাংলা একাডেমি, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রায় ৫০টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় সভা সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলপনা, বৈশাখী মেলা এবং ঐতিহ্যবাহী গান-বাজনার আয়োজন করা হবে।

সরকার প্রগতিশীল ও জীবনমুখী সংস্কৃতি বিকাশে বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে নিতাই রায় চৌধুরী আরও বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক চর্চা—সবকিছু মিলিয়েই আমাদের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। তাই বাউল গান, লোকসংগীত, যাত্রা ও নাটকের মতো ঐতিহ্যবাহী ধারাগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণে বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য স্থাপন করে একটি আনন্দমুখর পরিবেশ গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।


দৈনিক গণজাগরণ

সম্পাদক ও প্রকাশক- তপন রায় , প্রধান নির্বাহী সম্পাদক : আরমান ইসলাম , বার্তা সম্পাদক : বিধান রায়
দৈনিক গণজাগরণ